সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে দুর্গাপুরে বিক্ষোভ

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মব সন্ত্রাস ও হামলার প্রতিবাদে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশ থেকে হামলাকারীদের শনাক্ত করে বিচার দাবি করা হয়।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে দুর্গাপুর প্রেসক্লাব মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়। সিপিবি নেতা নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা সিপিবির সভাপতি আলকাছ উদ্দিন মীর, উপজেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম এবং উপজেলা সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রূপক সরকার। ছাত্র ইউনিয়নের নেতারাও বক্তব্য দেন।
উপজেলা সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রূপক সরকার বলেন, ‘যাঁরা অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির চর্চা করেন, তাঁদের ওপর নির্বিচারে নির্যাতন চালানোর যে মব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তারই অংশ হিসেবে গতকাল আমাদের পার্টির কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে এবং নেতা-কর্মীদের আহত করা হয়েছে।’
রূপক সরকার বলেন, ‘বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি। আজকের এই সমাবেশের মাধ্যমে আমরা অপশক্তিকে জানিয়ে দিতে চাই, এ দেশে যাঁরা অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি ও শুদ্ধ রাজনৈতিক চর্চাকে ধারণ করেন, তাঁদের ওপর ভবিষ্যতে এ ধরনের অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন চালানোর দুঃসাহস দেখানো হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।’
উপজেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম বলেন, গত দুই বছরে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের জন্য একটি শ্রেণি উঠেপড়ে লেগেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। একটি বিশেষ শক্তি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অস্বীকার করছে।
মোরশেদ আলম বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ বাংলাদেশ কমরেড মণি সিংহের বাংলাদেশ, এ বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, এ বাংলাদেশ জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশ। এ দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রক্ত ও জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। পরাজিত শক্তির নতুন করে আবির্ভূত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ দেশে সব শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষ বসবাস করবেন। সবাই মিলেমিশে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’
জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আলকাছ উদ্দিন মীর বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা ১৯৭১ সালে রণাঙ্গনে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অথচ তাঁদেরই আজ অসম্মান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ৫৬ বছরের ইতিহাসে এর চেয়ে দুঃখজনক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা আর হতে পারে না।
আলকাছ উদ্দিন মীর আরও বলেন, ‘এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদ করায় গতকাল পল্টনে আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মব সন্ত্রাস চালিয়ে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। সেই হামলার প্রতিবাদেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। আজ জাতির স্বার্থে আমাদের প্রশ্ন, এ দেশে কেন এ ধরনের মব সন্ত্রাস হচ্ছে? মানুষের কণ্ঠ কেন রোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে?’









