Ajker Patrika

নেত্রকোনায় ফসলরক্ষা বাঁধ নিয়ে দুই ইউনিয়নের কৃষকদের সংঘর্ষ, আহত ২০

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় ফসলরক্ষা বাঁধ নিয়ে দুই ইউনিয়নের কৃষকদের সংঘর্ষ, আহত ২০
সংঘর্ষের সময় বাঁধের একটি অংশ কেটে দেন কৃষকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ও পোগলা ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার বিকেলে উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের দত্তখিলা-নাগেরগাতী এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়েছে।

জানা গেছে, দত্তখিলা-নাগেরগাতী ফসলরক্ষা বাঁধ দেওয়ার কারণে মেদার বিলের পানি স্বাভাবিকভাবে দত্তখিলা খালে নামতে পারছিল না। কৃষকদের আশঙ্কা, বৃষ্টির কারণে মেদার বিলে পানি ঢুকে পড়লে সেখানে চাষ করা বোরো ধান নষ্ট হয়ে যাবে। এ কারণে বড়খাপন ইউনিয়নের কৃষকেরা ফসলরক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করেন। তবে এ বাঁধের ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে পোগলা ইউনিয়নের কান্দুলিয়া বিলের জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এ নিয়ে দুই ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো করা হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সংঘর্ষ চলাকালে পোগলা ইউনিয়নের কিছু লোক দত্তখিলা-নাগেরগাতী ফসল রক্ষা বাঁধের একটি অংশ কেটে দেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পোগলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের এলাকার মেদা বিলের প্রায় ৯০০ একর ফসলি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কোনো সমাধান পাইনি। পরে ভুক্তভোগী কৃষকেরা একত্রিত হয়ে মেদা বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য আংশিক বাঁধ কেটে দেন। এরপর বড়খাপন ইউনিয়নের লোকজন মাইকিং করে দলবদ্ধ হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।’

বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিকের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, দুই ইউনিয়নের কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পানি নিষ্কাশন ও ফসল রক্ষায় একটি সমন্বিত ও টেকসই সমাধান বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

চৈত্রসংক্রান্তিতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সাধারণ ছুটি

ইরানের বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র পাঠিয়েছিলাম, কুর্দিরা মেরে দিয়েছে: ট্রাম্প

সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন ঠেকাতে আইন পাস, ‘অসদাচরণে’ কঠোর শাস্তির বিধান

পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আর্টেমিস নভোচারীদের ৪০ মিনিট, কী ঘটবে তখন

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আ.লীগের মন্ত্রীদের মতো উত্তর দিয়েছেন: বিএনপির এমপি মনিরুল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত