Ajker Patrika

৮ কোটির সড়ক নির্মাণে মাটি-আধলা ইট, ভিডিও ভাইরালের পর যা ঘটল...

 গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
৮ কোটির সড়ক নির্মাণে মাটি-আধলা ইট, ভিডিও ভাইরালের পর যা ঘটল...
গুরুদাসপুরের বাহাদুরপাড়া সড়কে বালু-মাটির মিশ্রণের ওপর পুরোনো ইট ভেঙে খোয়া ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গ্রামবাসীর প্রতিবাদের পর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর। গতকাল শুক্রবার উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের বাহাদুরপাড়া গ্রামীণ সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের বেড তৈরিতে নির্ধারিত অনুপাতে বালু ও ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে মাটি মিশ্রিত বালু, পুরোনো ও আধলা ইট এবং নামমাত্র খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সঙ্গে গ্রামবাসীর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে কয়েকজন তরুণ নির্মাণকাজের অনিয়ম মোবাইল ফোনে ভিডিও করে সরাসরি সম্প্রচার করেন। বিষয়টি নজরে এলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিলন মিয়া ও সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান।

এ সময় গ্রামবাসী সড়কের বেডের একটি অংশ কোদাল দিয়ে খনন করে বালু ও খোয়ার মিশ্রণ দেখান। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর উপজেলা প্রকৌশলী নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মশিন্দা শিকারপাড়া-সিনিয়র মাদ্রাসা-বাহাদুরপাড়া হয়ে খুবজীপুর ভায়া সাহাপুর পর্যন্ত ৫ দশমিক ২৫ কিলোমিটার এবং আনন্দনগর-সাহাপুর পর্যন্ত ১ দশমিক ৭৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে প্রায় আট কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। নাটোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাবিবুর আলম কাজটি পেয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ সড়ক দুটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিলন মিয়া বলেন, সড়কটির শিডিউল অনুযায়ী প্রথমে ১০ ইঞ্চি বালুর স্তর দিতে হবে। এর ওপর ৭ ইঞ্চি বালুর সঙ্গে সমপরিমাণ ইটের খোয়া মিশিয়ে বেড তৈরি এবং এরপর ৬ ইঞ্চি পাথরের ঢালাই দেওয়ার কথা রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, গ্রামীণ সড়কটিতে প্রথমে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ১০ ইঞ্চি বালুর স্তর ফেলা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় স্তরে বালুর সঙ্গে ইটের খোয়া মেশানোর ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা মেলে। সেখানে বালুর সঙ্গে মাটি মেশানো হয়েছে এবং নির্ধারিত অনুপাতে ইটের খোয়া দেওয়া হয়নি। অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা হয়েছে পুরোনো ও আধলা ইট।

গুরুদাসপুরের মশিন্দা ইউনিয়নের বাহাদুরপাড়া গ্রামীণ সড়কে বালুর সঙ্গে মাটির মিশ্রণ। খোয়ার বদলে ব্যবহার করা হয়েছে পুরোনো ইট। ছবি: আজকের পত্রিকা
গুরুদাসপুরের মশিন্দা ইউনিয়নের বাহাদুরপাড়া গ্রামীণ সড়কে বালুর সঙ্গে মাটির মিশ্রণ। খোয়ার বদলে ব্যবহার করা হয়েছে পুরোনো ইট। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু-মাটির মিশ্রণের ওপর পুরোনো ইট ছড়িয়ে তা ভেঙে খোয়া হিসেবে দেখানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ, মিজানুর রহমান ও মো. আলামিন বলেন, শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নির্মাণকাজে অনিয়ম করছেন। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে তাঁরা উপজেলা প্রকৌশলী ও সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে সড়কের বেড কোদাল দিয়ে খনন করে বালু, মাটি ও খোয়ার মিশ্রণ দেখান। খননের পর তাঁদের অভিযোগের সত্যতা মেলে। শিডিউল অনুযায়ী সমপরিমাণ বালু ও ইটের খোয়া ব্যবহার করে কাজ শেষ করার দাবি জানান তাঁরা।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের চেষ্টা ও নিজেদের অর্থসহায়তায় সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই তাঁদের কষ্টের এই সড়কের নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম তাঁরা মেনে নেবেন না। নির্মাণকাজে অনিয়ম হলে সড়কটির স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

গুরুদাসপুরের বাহাদুরপাড়ায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদকর্মীদের কাছে বক্তব্য দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: আজকের পত্রিকা
গুরুদাসপুরের বাহাদুরপাড়ায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদকর্মীদের কাছে বক্তব্য দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

গ্রামবাসীর এসব অভিযোগের পর ঘটনাস্থলে থাকা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিলন মিয়া বলেন, নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে তাঁর দপ্তরের আপস নেই। শিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ করতে মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

গ্রামবাসীর অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মো. রুহুল আমিন বলেন, কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রকৌশল দপ্তরের টিম দিয়ে এবং প্রয়োজনে ল্যাবরেটরিতে নির্মাণসামগ্রী পরীক্ষা করা হবে। নিয়ম অনুযায়ীই মালামাল ব্যবহার করা হবে। প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখতে নিম্নমানের কোনো সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হবে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত