Ajker Patrika

ঢাকঢোলের তালে নৌকাবাইচ, মেতেছে চেচুয়া নদীর দুই পাড়

 গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
ঢাকঢোলের তালে নৌকাবাইচ, মেতেছে চেচুয়া নদীর দুই পাড়
নাটোরের গুরুদাসপুরের চেচুয়া নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। ছবি: আজকের পত্রিকা

সুসজ্জিত নৌকায় বাজছে ঢাকঢোল। তালে তালে চলছে ভাটিয়ালি গান। মাঝিদের কণ্ঠে—‘হেইয়ারে হেইয়াহো, মারো টান, হেইয়াহো’। বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মুখর নদীর পানি। শরতের শেষবিকেলে এমন দৃশ্য মুগ্ধ করেছে নদীপাড়ের মানুষকে।

গতকাল মঙ্গলবার নাটোরের গুরুদাসপুরের চেচুয়া নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধনী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় গতকাল। আজ বুধবার হবে মূল প্রতিযোগিতা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করবেন সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের খাকড়াদহ পূর্বপাড়া যুবসমাজের উদ্যোগে এ নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল করিম প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

প্রতিযোগিতায় ‘সোনার মদিনা এক্সপ্রেস’, ‘কান্দিপাড়া সোনার তরী’, ‘একতা এক্সপ্রেস’, ‘রিয়াদ এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘মোল্লাপাড়া এক্সপ্রেস’সহ ১৪টি নৌকা অংশ নিয়েছে। সাতটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে চলে প্রতিযোগিতা।

নাটোরের গুরুদাসপুরের চেচুয়া নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। ছবি: আজকের পত্রিকা
নাটোরের গুরুদাসপুরের চেচুয়া নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। ছবি: আজকের পত্রিকা

আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে রয়েছে একটি বড় ফ্রিজ, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে যথাক্রমে ৩২ ইঞ্চি ও ২৪ ইঞ্চি এলইডি টিভি। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব নৌকাকে দেওয়া হবে সৌজন্য পুরস্কার।

আয়োজকেরা আরও জানান, চেচুয়া নদীটি মৃতপ্রায়। বর্ষায় দক্ষিণ চলনবিল পানিতে টইটম্বুর হয়ে উঠলে নদীটিও প্রাণ ফিরে পায়। তখন ধারাবারিষা ইউনিয়নের খাকড়াদহ, কচুড়াড়ি এবং বড়াইগ্রাম উপজেলার ভিটাকাজীপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রাম জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে এসব এলাকার মানুষের জীবন অনেকটা ঘরবন্দী হয়ে যায়। বিনোদনের সুযোগও থাকে সীমিত।

ঘরবন্দী মানুষের জন্য নির্মল বিনোদনের ব্যবস্থা করতেই এবার দুই দিনব্যাপী নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা। গত বছর ছোট পরিসরে আয়োজন করা হলেও এবার বড় পরিসরে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

উদ্যোক্তা মন্টু সরদার, আলহাজ উদ্দিন, আলমগীর হোসেন, শামীম হোসেন ও আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকাবাইচ আয়োজন করতে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় হবে। যুবসমাজের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। নির্মল বিনোদনের কথা বিবেচনা করে সবাই সহযোগিতা করেছেন।’

তাঁরা জানান, নৌকাবাইচকে ঘিরে অজপাড়াগাঁয়ের বাড়িগুলোতেও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। বাড়িতে বাড়িতে মেয়েজামাই ও আত্মীয়স্বজন এসেছেন। চলছে নানা রকম খাবারের আয়োজন। নদীপাড়ের সড়কেও বসেছে বিভিন্ন পণ্যের দোকান। সেখানেও ভালো বেচাকেনা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি ও স্কুলশিক্ষক ইসহাক আলী বলেন, ‘নানা কারণে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের আয়োজন সংকুচিত হয়ে পড়েছে। যুবসমাজের এমন আয়োজনে এলাকার মানুষ খুশি। আগামীতে আরও বড় পরিসরে নৌকাবাইচের আয়োজন হবে—এটাই প্রত্যাশা।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত