Ajker Patrika

রায়পুরায় জলাতঙ্কে আক্রান্ত গরু জবাই করে মাংস বিক্রি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

রায়পুরা (নরসিংদী)প্রতিনিধি
রায়পুরায় জলাতঙ্কে আক্রান্ত গরু জবাই করে মাংস বিক্রি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রাধাগঞ্জ বাজারে জলাতঙ্কে আক্রান্ত একটি গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর আজ সোমবার স্থানীয় লোকজন গরুর মালিক জুলহাস ও মাংস বিক্রেতা ফারুক মিয়াকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানার কাছে নিয়ে যান। এ ঘটনায় মাংস ক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাধাগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা জুলহাসের একটি গরু জলাতঙ্কে আক্রান্ত হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের এআই টেকনিশিয়ান উপসহকারী রফিক গরুটি আলাদা করে রাখা এবং বিক্রি বা জবাই না করার পরামর্শ দেন। স্থানীয় কয়েকজনকেও গরুটি না কেনা বা জবাই না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, জুলহাস পরে গরুটি গোপনে ৬০ হাজার টাকায় মাংস ব্যবসায়ী ফারুক মিয়ার কাছে বিক্রি করেন। গত শনিবার ভোরে গরুটি জবাই করে রাধাগঞ্জ বাজারে মাংস বিক্রি করা হয়। সাধারণ ক্রেতারা বিষয়টি না জেনে ওই মাংস কিনে রান্না করে খান।

স্থানীয়দের দাবি, গরুটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত থাকার বিষয়টি আজ সকালে জানাজানি হয়। এরপর ওই মাংস কেনা কয়েকজনসহ স্থানীয়রা ফারুক মিয়া ও জুলহাসকে আটক করে ইউএনওর কাছে নিয়ে যান।

তবে গরুটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে কি না এবং বিক্রি করা মাংস খাওয়ার কারণে কারও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জবাই ও মাংস বিক্রির বিষয়টি যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এলাকায় সচেতনতা তৈরিরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি প্রাণিসম্পদ বিভাগের তদারকির আওতায়। তাঁরা অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতা করা হবে।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ বিভাগের এআই টেকনিশিয়ান উপসহকারী রফিক গরুটিকে দেখে মালিককে পরামর্শ দিয়েছিলেন। গরুটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ায় আলাদা করে রাখতে এবং কোনোভাবেই বিক্রি না করতে বলা হয়েছিল। তিনি স্থানীয় লোকজনকেও বিষয়টি নিয়ে সচেতন করেছিলেন। কিন্তু মালিক গরুটি কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে বিষয়টি আমরা জানতে পারি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত দুজনকে আমার কাছে নিয়ে আসেন। ভুক্তভোগী কেউ চাইলে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাংস বিক্রেতাকে ওই স্থানে মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে।’

মাসুদ রানা আরও বলেন, ‘মাংস যথাযথভাবে সিদ্ধ বা রান্না করলে ঝুঁকি কমে যাওয়ার কথা। তবে কেউ অসুস্থতা বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত