Ajker Patrika

মাদ্রাসাছাত্রকে অপহরণের পর নির্যাতন করে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ২

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ৩২
মাদ্রাসাছাত্রকে অপহরণের পর নির্যাতন করে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ২
গ্রেপ্তার সজল ও সুলাইমান। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গতকাল রোববার উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়াচর থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের সজল ও সুলাইমান।

অপর দিকে অপহরণ হওয়া শিশু সাইমুন ইসলাম সাইম (১১) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার আগগয়হাটা গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে। সে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ফলিয়া এলাকার আল ইমরান মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে শিশু সাইম মাদ্রাসা থেকে বের হলে তাকে সদর উপজেলার পুলবন্দি বাজারে ডেকে নেন আসামি সুলাইমান। সেখানে চেতনানাশক খাইয়ে অচেতন করে তাকে ধোপাডাঙ্গা গ্রামে আসামি রবিউলের ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়। পরে আসামি সজল, রবিউলসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে সাতজন মিলে শিশু সাইমকে অমানবিক নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে তার মা ও দাদির কাছে মোবাইল ফোনে কল করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন আসামিরা।

সাইমের মা তাৎক্ষণিক ঘটনাটি মাদ্রাসার পরিচালক শাহ জালাল হোসেন রোস্তমকে জানালে তিনি কয়েকজনকে নিয়ে ধোপাডাঙ্গা গ্রামে যান। পরে গ্রামের একটি অন্ধকার কক্ষ থেকে সাইমকে হাত-পা বাঁধা ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর সাইমকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় শিশু সাইমের মা সুমি বেগম বাদী হয়ে তিনজনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে সাতজনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে আসামি সজল ও সুলাইমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সাইমের মা সুমি বেগম বলেন, ‘আসামিরা আমার পরিচিত। তারা পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে অপহরণ করে নির্যাতন করেছে। মুক্তিপণ না দিলে ছেলেকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিল। সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামি জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পরে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত