Ajker Patrika

পল্লিচিকিৎসক ফরহাদের ব্যতিক্রমী ‘ফার্মেসি পাঠাগার’, স্বাস্থ্যসেবা-জ্ঞানচর্চা একই ছাদের নিচে

হারুনূর রশিদ, রায়পুরা (নরসিংদী)
আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ১০
পল্লিচিকিৎসক ফরহাদের ব্যতিক্রমী ‘ফার্মেসি পাঠাগার’, স্বাস্থ্যসেবা-জ্ঞানচর্চা একই ছাদের নিচে
ফার্মেসি পাঠাগারে বসে বই পড়ছেন রোগীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রোগী আসছেন ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ নিতে, আর অপেক্ষার ফাঁকে ডুবে যাচ্ছেন বইয়ের পাতায়—একই ছাদের নিচে চিকিৎসা আর জ্ঞানচর্চার এমন অনন্য সমন্বয় গড়ে উঠেছে ‘ফার্মেসি পাঠাগার’। সাহিত্য খরার এই সময়ে গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বই পড়ার সুযোগ সৃষ্টি করে স্থানীয় মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন নরসিংদীর রায়পুরার পল্লিচিকিৎসক মো. ফরহাদ আহমেদ।

রায়পুরা উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর গ্রামের মিনা মার্কেটে চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাঠাগারটির যাত্রা শুরু। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রোগীরা এখানে আসছেন। সিরিয়াল দেওয়ার পর যে সময়টুকু বসে থাকতে হয়, সে সময়টাতে তাঁরা পছন্দমতো বই নিয়ে পড়তে শুরু করছেন। ফলে অপেক্ষার সময়টুকু হয়ে উঠছে জ্ঞানচর্চার মূল্যবান মুহূর্ত। শুধু রোগী নয়, সাধারণ মানুষজনও এখানে এসে বই পড়তে পারেন।

জানা যায়, মামা পাড়াগাঁয়ের ‘বাদশা’ খ্যাত কবি আলাউদ্দিন আল আজাদের স্মৃতিকে ধরে রাখার স্বপ্ন থেকেই এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন ফরহাদ আহমেদ। শৈশব থেকেই মামার সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা ফরহাদের মনে সাহিত্যপ্রেমের বীজ বপন হয়, যা আজ এই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

পাঠাগারটিতে ওষুধপত্রের পাশাপাশি রাখা আছে স্বাস্থ্য, সাহিত্য, ধর্ম, ইতিহাস, কোরআন-হাদিস ও বিজ্ঞানভিত্তিক নানা বই। এতে রোগীরা চিকিৎসার অপেক্ষায় বসে সময় নষ্ট না করে বই পড়ে জ্ঞানার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। মাদক, মোবাইল ছেড়ে তরুণদের মাঝেও বই পড়ার আগ্রহ বাড়ছে, যা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

স্থানীয় পাঠক তনয় বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে এসে বই পড়ার এমন সুযোগ সত্যিই ব্যতিক্রমী। এতে সময় ভালো কাটছে, পাশাপাশি নতুন কিছু শেখাও হচ্ছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মুকারম হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ সমাজকে বইমুখী করবে এবং মাদকসহ নানা নেতিবাচকতা থেকে দূরে রাখতে সহায়ক হবে।’

চিকিৎসক ফরহাদ আহমেদ নিজেও পড়তে ও লিখতে পছন্দ করেন। তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘আমার দেখা কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ’, ‘নিভে যায় নক্ষত্র’, ‘বেদনায় অগ্নিস্নান’, ‘আকাশজুড়ে মতিউর’সহ ১৫টি বই। এ ছাড়া সংকলন, প্রবন্ধ ও জার্নালে তাঁর অসংখ্য লেখা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে আরও অর্ধশতাধিক পাণ্ডুলিপি।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরনগর গ্রামে জন্ম ফরহাদ আহমেদ এর। তাঁর বাবা জয়নাল আবেদীন এবং মা আয়েশা খাতুন। ১৯৯৪ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন। ১৯৯৬ সালে ভৈরব হাজী আসমত কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৯৯ সালে বিএসসি পাস করেন। পরবর্তী সময় ২০০১ সালে তিনি সরকারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিজ্ঞানের ওপর স্নাতকোত্তর (প্রিলি) ডিগ্রি অর্জন। ২০১০ সালে বাংলাদেশ বোর্ড অব ইউনানি অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক সিস্টেম অব মেডিকেল এবং ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ফ্যামিলি প্ল্যানিং থেকে প্রাথমিক চিকিৎসায় ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে গ্রামের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ফরহাদ আহমেদের স্ত্রী নিপা বেগম বলেন, ‘তিনি দিনভর মানুষের সেবা করেন, আর রাতে লেখালেখিতে মগ্ন থাকেন। এই পাঠাগার গড়ে তুলতে আমি তাঁর পাশে ছিলাম।’

চিকিৎসক ফরহাদ আহমেদ বলেন, ‘শৈশব থেকেই মামা কবি আলাউদ্দিন আল আজাদের সান্নিধ্যে সাহিত্যচর্চা ও জ্ঞানার্জনের প্রতি আগ্রহ জন্মে। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং মানুষের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের কথা চিন্তা করেই “ফার্মেসি পাঠাগার” গড়ে তুলি। তরুণদের মোবাইল আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে বইয়ের বিকল্প নেই। অনেকেই ওষুধ নিতে এসে বই পড়েন, এমনকি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পড়ে আবার ফেরত দেন। বই মানুষকে আলোকিত করে—এই বিশ্বাস থেকেই আমার এই প্রয়াস।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রশাসনের সভায় এমপির বউ, ইউএনও-এসি ল্যান্ড বদলি

কিশোরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়াতে উপসাগরীয় মিত্রদের সৌদির ‘গোপন বার্তা’

মার্কিন বাহিনীতে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না ইরানের: কংগ্রেসকে পেন্টাগন

ভুলবশত ৩টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে কুয়েত: মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত