Ajker Patrika

সোনারগাঁয়ে যমজ ভাইসহ ৩ স্কুলছাত্রের মৃত্যুতে চারজন আটক

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ১৮
সোনারগাঁয়ে যমজ ভাইসহ ৩ স্কুলছাত্রের মৃত্যুতে চারজন আটক
মেঘনায় ডুবে তিন ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় বাল্কহেডের চার কর্মচারী আটক। ছবি: আজকের পত্রিকা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে যমজ ভাইসহ তিন স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় একটি বাল্কহেড জব্দ করার পাশাপাশি চারজনকে আটক করেছে নৌ পুলিশ। গতকাল রোববার রাতে বৈদ্যেরবাজার এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত যমজ দুই ভাইয়ের বাবা মোহাম্মদ ফারুক মামলার বাদী হবেন বলে জানিয়েছেন সোনারগাঁ থানার বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশের পরিদর্শক রুহুল আমিন।

আটক চারজন হলেন বাল্কহেড এমবি সোনারগাঁ মদিনা-৪-এর সুকানি মো. হাবিবুর রহমান (৪৫), গ্রিজার মো. আবু জাফর (৩৫), লস্কর এবাদুল হাওলাদার (২৫) ও মো. সিফাত (১৯)। বাল্কহেডটি মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজের। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ হোসেন মিয়া ও সুজিত কুমার সাহা।

এদিকে নিহত শিক্ষার্থীদের ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় বাড়ি মজলিশ হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে যমজ ভাই আরেফিন ও আশেকিন আহমেদকে বাড়ি মজলিশ সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত আরেক শিক্ষার্থী আবিদ হোসেনকে তার গ্রামের বাড়ি খুলনায় দাফন করা হয়েছে।

রুহুল আমিন বলেন, মেঘনা নদীতে বাল্কহেডটি থামানো ছিল এমন স্থানে গোসল করছিল শিক্ষার্থীরা। বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করার পর নদীর পানিতে প্রচণ্ড ঘূর্ণি তৈরি হয়। এ সময় একজন নারী টান দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে পারলেও অন্য তিনজন পানিতে তলিয়ে যায়। তাঁরা মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুজন যমজ ভাই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাল্কহেডের পাখার সঙ্গে ধাক্কা লেগে শিক্ষার্থীরা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা বাল্কহেডে উঠে নদীতে গোসল করছিল। একপর্যায়ে তাঁরা নদীতে লাফিয়ে পড়লে বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করা হয়। এতে ইঞ্জিনের পাখার আঘাতে তাঁরা পানিতে তলিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন ইঞ্জিন বন্ধ করতে বললেও বাল্কহেডের কর্মীরা তা করেননি এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি।

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আরেফিন ও আশেকিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল আবিদের মরদেহ উদ্ধার করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত