Ajker Patrika

বিয়ের কথা বলে নারীকে আমবাগানে নিয়ে পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

 নওগাঁ প্রতিনিধি
আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ২১: ৩৫
বিয়ের কথা বলে নারীকে আমবাগানে নিয়ে পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২
গ্রেপ্তার বাবুল হোসেন ও তারেক রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় মেরিনা বেগম নামের এক গৃহবধূকে হত্যার পর লাশে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেন (৪৯) ও তারেক রহমানকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে বাবুল হোসেন ধামইরহাট এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক মেম্বার। তারেক রহমান একই এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে।

এসপি জানান, গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি) জানতে পারে, ধামইরহাট উপজেলার এক আমবাগানে একটি পোড়া লাশ পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল প্রবল বৃষ্টির মধ্যে থানা থেকে ২৪-২৫ কিলোমিটার দূরে ঘটনাস্থলে যায়।

সেখানে একজন মধ্যবয়সী নারীর আগুনে পোড়া মরদেহ দেখতে পায়। মরদেহের পাশে প্রসাধনসামগ্রী ও জাতীয় পরিচয়পত্র ছড়িয়ে ছিল। এরপর বিষয়টি সিআইডি ও পিবিআইকে জানানো হলে তদন্ত শুরু হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় তদন্ত ও ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে কয়েকজনকে সন্দেহ করা হয়। এর ভিত্তিতে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি তারিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নিহত মেরিনা বেগমের ছেলে কাউসার আলী ও স্বামী হাসেন আলী জীবিকার কারণে কুমিল্লায় থাকেন। বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে দুধ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে মেরিনা বেগমের সঙ্গে বাবুল হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্ক গভীর হলে মেরিনা বেগম বিয়ের জন্য চাপ দেন। তখন বাবুল তাঁকে ১৬ তারিখে বিয়ের আশ্বাস দেন। ওই আশ্বাসে মেরিনা বেগম প্রসাধনসামগ্রী ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন।

এসপি আরও জানান, মেরিনা বেগমকে হত্যার পরিকল্পনায় বাবুল হোসেন আরও চারজনকে সঙ্গে নেন। ১৬ তারিখ দুপুরে মেরিনা বেগম বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বাবুল, তারেকসহ অন্য দুজনকে শাহাপুর ইউনিয়নে পাঠান তাঁকে নিয়ে আসতে। সেখান থেকে মেরিনাকে রাত ১০টার দিকে অগ্রাদিগুণ বাজারে আনা হয়। পরে তাঁরা অগ্রাদিগুণ বাজার থেকে মনিহারি-তালপুকুরগামী পাকা সড়কের মাঝামাঝি স্থানে যান। মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা রেখে রাস্তা থেকে ৩০০ ফুট দক্ষিণে ভলকাডাঙ্গা এলাকার একটি বড় আমবাগানে জোর করে নেওয়া হয় মেরিনা বেগমকে।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে বাবুলের নির্দেশে তারেক ও আরও একজন গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে মেরিনা বেগমকে হত্যা করেন। এরপর আশপাশের খড়কুটো জড়ো করা হয় এবং বাবুল পেট্রল ছিটিয়ে গ্যাসলাইট দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে সবাই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এসপি জানান, গ্রেপ্তার দুজনসহ মোট চারজন মিলে মেরিনা বেগমকে হত্যা করেন। লাশ যাতে শনাক্ত করা না যায়, সে জন্য মুখমণ্ডলসহ শরীরের ঊর্ধ্বাংশে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) শরিফুল ইসলামসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত