
পাড়া-মহল্লার টংদোকানে এক কাপ লাল চায়ের দাম ৫ থেকে ৭ টাকা। আর নওগাঁয় পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে একই দরে—৫ থেকে ৭ টাকা কেজি। অর্থাৎ এক কাপ চায়ের দামে মিলছে এক কেজি আলু। এতে চরম লোকসানে পড়েছেন জেলার কৃষকেরা।
গত কয়েক মৌসুম ধরে আলু চাষে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা। মাঠ থেকে পাইকারি বাজার—সব জায়গায় আলুর দামে ধস নেমেছে। কম দামে আলু কিনে স্বস্তিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। তবে উৎপাদন খরচ না ওঠায় হতাশ কৃষকেরা।
কৃষকদের ভাষ্য, এ বছর প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৫ টাকা। বীজ, সার, সেচ ও কীটনাশকে ব্যয় বেড়েছে। অথচ জাতভেদে আলু বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৭ টাকা কেজিতে। হিমাগারের ভাড়া দ্বিগুণ হওয়ায় সংরক্ষণ নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
সদর উপজেলার বক্তারপুর এলাকার কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, ‘গত মৌসুমেও লোকসান হয়েছিল। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ঋণ করে দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করি। এবারও খরচ উঠবে না।’

বদলগাছী উপজেলার বালুভরা এলাকার মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আলু তুলতে শ্রমিকপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক লাগে। পরিবহন খরচও আছে। বর্তমান দামে বিক্রি করে শ্রমিকের টাকাও ওঠে না।’
মান্দা উপজেলার মৈনম এলাকার কৃষক ইদ্রিস উদ্দিন জানান, ১২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। কিন্তু দাম না থাকায় বিক্রি ও সংরক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়েছেন।
রাণীনগর উপজেলার মিরাট এলাকার বাচ্চু মণ্ডল বলেন, ‘২০-২২ বছর ধরে আলু চাষ করছি। এমন কম দামে কখনো বিক্রি করিনি। আগামী বছর অন্য ফসলের কথা ভাবছি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩০ টন। গত মৌসুমে ২৫ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয় ৫ লাখ ১৪ হাজার ৩৬০ টন। সে হিসাবে আবাদ কমেছে ৩ হাজার ৯৭০ হেক্টর এবং উৎপাদন কমেছে ৪০ হাজার ৩০ টন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, ‘গত মৌসুমে লোকসানের পর কৃষকদের কম জমিতে আলু চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে অনেকেই চাষ করেছেন। উৎপাদন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, সে কারণেই দাম কমেছে।’

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় গজারি বনের পাশে আগুনে পোড়া এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে হত্যার পর শুকনো পাতা ও খড়কুটো দিয়ে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়েছে।
৮ মিনিট আগে
হরিনা গ্রামের সঞ্জয় মালোর সঙ্গে একই গ্রামের মাসুদ চৌধুরী ও দুলাল চৌধুরীর মধ্যে সরকারি জমি লিজ ও দখল-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। বৃহস্পতিবার থেকে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। শুক্রবার রাতে আগের বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে রোকন মোল্যা ও সঞ্জয় মালোর সমর্থকেরা প্রতিপক্ষ মাসুদ চৌধুরী...
৩৯ মিনিট আগে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিরাট উজান পাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ঈসমাইল হোসেন সরসের অনুসারীদের সঙ্গে বর্তমান ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান মজুর সমর্থকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিভিন্ন বিষয় বিশেষ করে জলমহাল-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
১ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় সমাজকর্মী বুলবুল হাসান বলেন, ‘রায়হানের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আমাদের বিমোহিত করে। সে সমাজের বোঝা না হয়ে সম্পদ হওয়ার চেষ্টা করছে। প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পেলে সে বড় একটি দোকান দিয়ে পুরোপুরি স্বাবলম্বী হতে পারত।’
৩ ঘণ্টা আগে