Ajker Patrika

ত্রিশালে শিশু ধর্ষণ: অভিযুক্ত ইমামের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সহপাঠীদের মানববন্ধন

 ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
ত্রিশালে শিশু ধর্ষণ: অভিযুক্ত ইমামের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সহপাঠীদের মানববন্ধন
অভিযুক্ত ইমামের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সহপাঠী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মানববন্ধন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মসজিদের ইমামের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী শিশুর সহপাঠী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। আজ রোববার দুপুরে ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী সড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযুক্তের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে এমন ঘটনার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা শিশুদের মানসিক বিকাশ ও অভিভাবকদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘ধর্ষণমুক্ত বাংলাদেশ চাই’, ‘নিরাপদ সমাজ গড়তে চাই’, ‘অপরাধীর বিচার চাই’, ‘ধর্ষকের কোনো দল নেই’, ‘ধর্ষকের কোনো ক্ষমা নেই’ এবং ‘শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত কর’—এমন বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অভিভাবকেরা বলেন, সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের জন্য মসজিদে পাঠানো হয়। সেখানে এমন ঘটনার অভিযোগ অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষাবিষয়ক কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

ভুক্তভোগী শিশুর এক সহপাঠী বলে, “ও থাকলে আজ আমাদের সঙ্গে খেলাধুলা ও পড়াশোনা করত। কিন্তু এখন সে হাসপাতালের বেডে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস ছামাদ ঢালী বলেন, “একজন মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।”

শিক্ষিকা তানিয়া সিদ্দিকা কুসুম বলেন, “সে আমাদের বিদ্যালয়ের অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী। তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ঘটনার পর আজ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম ছিল। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”

গতকাল শনিবার দুপুরে ত্রিশাল উপজেলা সদর ইউনিয়নের একটি মসজিদে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ওই মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহিনুর ইসলামের (৪৫) বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহাম্মদ জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্নের জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারি এবং শিশু সুরক্ষাবিষয়ক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত