Ajker Patrika

শ্রীপুরে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র: চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম দুই বছরেও শুরু হয়নি

  • সাড়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে কেন্দ্রটি নির্মাণ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
  • প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় অর্থ বরাদ্দ ও জনবল নিয়োগ হয়নি।
  • চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত এলাবাসী।
রাতুল মণ্ডল শ্রীপুর (গাজীপুর) 
শ্রীপুরে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র: চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম দুই বছরেও শুরু হয়নি
দমদমা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের শ্রীপুরে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে দমদমা ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে দুই বছর আগে। কিন্তু কার্যক্রম শুরু করার প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় অর্থ বরাদ্দ ও জনবল নিয়োগ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কেন্দ্রটির বিভিন্ন আসবাব।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দান করা জমিতে নির্মিত ভবনটিতে কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নির্মাণের খবর পেয়ে আশপাশের এলাকা থেকে সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গর্ভবতী মা, প্রসূতি ও নবজাতক শিশুর চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টির মান উন্নয়ন এবং টিকাদান কর্মসূচি সফল করারও লক্ষ্য ছিল ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটির।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা গ্রামে ২০২২ সালে দমদমা মা ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে। এতে স্থাপন করা হয়েছে রোগীদের জন্য শয্যা, বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থার জন্য জেনারেটর, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), ফ্যান, চেয়ার-টেবিলসহ আনুষঙ্গিক আসবাব।

স্থানীয়দের দান করা ৪৩ শতাংশ জমির ওপর ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০২৪ সালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রূপালী এন্টারপ্রাইজ।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস ছাত্তার বলেন, ‘আমাদের গ্রামের কয়েকজন মিলে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ৪৩ শতাংশ জমি দান করি। এখানে আধুনিক ভবনসহ সবকিছু হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত চিকিৎসকের দেখা পেলাম না। কী কারণে হাসপাতালটি চালু হচ্ছে না, তা আমাদের জানা নেই। বাড়ির কাছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও আমাদের গাজীপুরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়; যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ভোগান্তিরও।’

দমদমা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, ‘হাসপাতালটি চালু হলে আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ খুব সহজে চিকিৎসাসেবা নিতে পারত। আমাদের কপাল ভালো না। এত সুন্দর আধুনিক ভবন হলো, তবু চালু হচ্ছে না।’

মোতাহার হোসেন পালোয়ান নামের একজন বলেন, ‘হাসপাতালটি চালু হলে দমদমা, নলগাঁও, চিনাশুকানিয়া, দরপাড়াসহ আশপাশের ২০টি গ্রামের মানুষ হাতের নাগালে চিকিৎসাসেবা পেত।’

হাসপাতালটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা সহকারী নার্সিং অ্যাটেন্ডেন্ট জোবাইদা আক্তার রিমা বলেন, ‘আমি এখানে ডেপুটেশনে দায়িত্বে আছি। দুই বছরের বেশি সময় এখানে দায়িত্ব পালন করলেও কোনো বেতন-ভাতা পাই না।’

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘দমদমা গ্রামের ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণে ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছিল। নির্মাণকাজ শেষ হওয়া পর ভবনটি ২০২৪ সালের জুনে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কমিটির মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

জানতে চাইলে গাজীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরী বলেন, ‘প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটি চালু করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত