Ajker Patrika

চুরির অভিযোগে নাতিকে বেঁধে মারধর, বাধা দিতে গিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
চুরির অভিযোগে নাতিকে বেঁধে মারধর, বাধা দিতে গিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে চুরির অভিযোগে নাতিকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে নবী হোসেন মৃধা (৭০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের হাটপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাতেই চিকিৎসাধীন ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। নিহত নবী হোসেন মৃধা উপজেলার হাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত পৌনে ৯টার দিকে সারফুল ইসলামের ছেলে রানাকে (২০) মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে আটক করে স্থানীয়রা। পরে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম ফারুকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বেঁধে রাখা হয় তাঁকে। একপর্যায়ে তাঁকে মারধরও করা হয়। এ সময় রানার দাদা গিয়ে মারধরে নিষেধ করে প্রয়োজনে পুলিশে দিতে বলেন। কিন্তু তাঁরা না শুনে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হলে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ভাতিজা জলিল মিয়া বলেন, ‘রানাকে মারধর করতে নিষেধ করায় তারা কাকাকে (নবী হোসেন মৃধা) ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম মিয়া বলেন, মোবাইল চুরির ঘটনায় এলাকার অতি উৎসাহী কিছু লোকজন রানাকে বেঁধে মারধর করে। সে সময় নবী হোসেন মৃধা নাতিকে বাঁচাতে গেলে তাঁকেও আহত করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মারাই গেলেন।

গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মৌসুমী আক্তার জানান, রোগীকে ইসিজি করে মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উস্থি ইউনিয়নের বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম ফারুক বলেন, ‘মার্কেটের সামনের ঘটনায় জড়িতদের চিনি না, আমিও অসুস্থ হয়ে বাড়িতে আছি।’

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত