Ajker Patrika

বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটুপানি, জুতা হাতে স্কুলে যাওয়ার লড়াই খুদে শিক্ষার্থীদের

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) 
বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটুপানি, জুতা হাতে স্কুলে যাওয়ার লড়াই খুদে শিক্ষার্থীদের
বৃষ্টিতে পানি জমে যাওয়ায় হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের পশ্চিম রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। আজ বুধবার সকালে টানা বৃষ্টির পর বিদ্যালয়সংলগ্ন প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে বিদ্যালয়ের ১৯৭ শিক্ষার্থীকে হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়।

সকালে বিদ্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তানহাকে পিঠে ভেজা স্কুলব্যাগ, এক হাতে জুতা ও অন্য হাতে গুটানো স্কুলড্রেস নিয়ে হাঁটুপানির মধ্যে সাবধানে এগোতে দেখা যায়। কয়েক কদম পরপরই হোঁচট খাওয়ার উপক্রম হচ্ছিল শিশুটি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা এলেই বিদ্যালয়ের সামনে কাঁচা সড়কটি ডুবে যায়। কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্বও বোঝা যায় না। পানির নিচে ছোট-বড় গর্ত থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, এই পথে প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষ চলাচল করেন। পশ্চিম রামনগর ছাড়াও মোকামিয়া, চরপাড়া, চরগোরকপুর ও মাইজপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পশ্চিম রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ৮৮ বছর ধরে এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। ধুরাইল বাজার থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে চরগোরকপুর বাজারের দক্ষিণ পাশে বিদ্যালয়টির অবস্থান। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান সংযোগ সড়কটি পাকা হয়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হলেও সড়ক উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

অভিভাবক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আজ বাচ্চাকে কাঁধে করে স্কুলে নিয়ে এসেছি। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। মাত্র ৫০০ মিটার রাস্তার কারণে বছরের পর বছর আমাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা খাতুন ও মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়কে পানি জমে যায়। এতে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, পুরো এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। দ্রুত সড়কটি উঁচু করে পাকা করা হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, চরগোরকপুর প্রধান সড়ক থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় প্রতি বর্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘বর্ষা এলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমার অনুরোধ, সড়কটি দ্রুত উঁচু করে সংস্কার করা হোক, যাতে নিরাপদ যাতায়াত ও স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত করা যায়।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিমা আক্তার খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি আপনার (সাংবাদিক) মাধ্যমে প্রথম জানলাম। প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ লিখিত আবেদন করতে বলা হবে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশীষ কর্মকার বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ভোটকেন্দ্র হওয়ায় প্রাথমিকভাবে সেখানে মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। মাটি বসার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে সেখানে এইচবিবি (ইটের সলিং) করে সড়কটি টেকসইভাবে নির্মাণ করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত