Ajker Patrika

ফুলবাড়িয়ায় জামায়াতের এমপির ভাইকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ, বিলবোর্ড ভাঙচুর

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ফুলবাড়িয়ায় জামায়াতের এমপির ভাইকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ, বিলবোর্ড ভাঙচুর
উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের হট্টগোল। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি অধ্যক্ষ মুহা. কামরুল হাসান মিলনের ছোট ভাই কিরণকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া এমপির বিলবোর্ড ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ফুলবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বুধবার ‘ভয়েস অব ফুলবাড়িয়া’সহ কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহিদুল ইসলাম সোহাগের বিরুদ্ধে সার ডিলার নিয়োগে আর্থিক লেনদেন এবং ফ্যামিলি কার্ডের গণনাকারী বাছাইয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে পোস্ট দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউএনওর অপসারণের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ বিষয়টি বিএনপির নেতা-কর্মীদের নজরে এলে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে উপজেলা পরিষদ এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে থেকে এমপির ভাই কিরণের নেতৃত্বে কয়েকজন যাওয়ার সময় তাঁদের থামিয়ে দেন বিএনপি নেতারা। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার একপর্যায়ে কিরণসহ কয়েকজন সেখান থেকে সরে যান। এ সময় কিরণের পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে।

এর কিছুক্ষণ পর দুপুর পৌনে ১টার দিকে চব্বিশে চত্বরে থাকা এমপির একটি বিলবোর্ড ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর ‘ভয়েস অব ফুলবাড়িয়া’ ফেসবুক আইডি থেকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের আশ্বাস ও অনুরোধের কথা উল্লেখ করে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ছাইফুল ইসলাম বাদল বলেন, ‘ফুলবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করতে চেয়েছিল জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। এর প্রতিবাদে সাধারণ জনগণ ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। সার ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। জামায়াত-শিবিরের যেকোনো কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।’

পৌর বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম শমসের আলী বলেন, ‘সার ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। একটি পক্ষ বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে উপজেলা পরিষদ ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেওয়ার চেষ্টা করছিল।’

অন্যদিকে, ফুলবাড়িয়া জামায়াতের শুরা ও পরামর্শ বোর্ডের সদস্য মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ ঘেরাও জামায়াতের কোনো কর্মসূচি ছিল না। কিরণ আমাদের দলের কেউ নন। তবে এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউএনও শহিদুল ইসলাম সোহাগের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসানুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত