Ajker Patrika

হাতি–মানুষে দ্বন্দ্ব, বাড়ছে প্রাণহানি

  • এক যুগে মারা পড়েছে অন্তত ৩০টি বন্য হাতি।
  • হাতির আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫ জন মানুষ।
  • পাহাড়ে হাতির খাদ্য-সংকট দূর করার দাবি।
জুবাইদুল ইসলাম, শেরপুর
গারো পাহাড়ে খাদ্যের অভাবে লোকালয়ে নেমে এসে কৃষকের খেতের ধান নষ্ট করছে হাতি। সম্প্রতি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায়। ছবি: আজকের পত্রিকা
গারো পাহাড়ে খাদ্যের অভাবে লোকালয়ে নেমে এসে কৃষকের খেতের ধান নষ্ট করছে হাতি। সম্প্রতি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

শেরপুরের গারো পাহাড়ে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে। দখলদারদের কারণে বনে পর্যাপ্ত খাদ্য না পেয়ে প্রতিদিনই হাতির দল লোকালয়ে নেমে আসছে। ধানখেতে হানা দিচ্ছে। হাতির আক্রমণের ভয়ে খেতের আধা পাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন সীমান্ত এলাকার অনেক কৃষক।

ধান রক্ষায় কৃষকের দেওয়া বিদ্যুতের জিআই তারে জড়িয়ে এবং মানুষের আঘাতে মারা পড়ছে একের পর এক বন্য হাতি। আবার হাতির আক্রমণে মারা পড়ছে মানুষও। এভাবেই পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বাড়ছে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব। এক সপ্তাহ আগেও নালিতাবাড়ী উপজেলার বাতকুচি টিলাপাড়া এলাকায় ধানখেতের বিদ্যুতের ফাঁদে একটি বন্য হাতির মৃত্যু হয়েছে। তবে এ দ্বন্দ্বের নিরসন চান পরিবেশবিদেরা। তাঁরা বলছেন, হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে প্রয়োজন হাতির অভয়ারণ্য ও পর্যাপ্ত খাবারের জোগান।

জানা গেছে, একসময় শেরপুরের সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের বনাঞ্চল বিস্তৃত ছিল বিশাল এলাকাজুড়ে। কিন্তু কালের বিবর্তনে পাহাড়ে বসতি স্থাপন করেছে মানুষ। ধীরে ধীরে ছোট হয়ে এসেছে হাতির বিচরণক্ষেত্র। ১৯৯৫ সালে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গহিন পাহাড় থেকে দলছুট হয়ে বাংলাদেশে চলে আসা শতাধিক বন্য হাতি কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে খাদ্যের অভাবে নানা সময় নেমে আসছে সীমান্তের ফসলের খেত ও বাড়িঘরে। এতে ফসল বাঁচাতে বাধা দিচ্ছে মানুষ। নানাভাবে মারা হচ্ছে হাতি। ক্ষিপ্ত হয়ে হাতিও আক্রমণ করছে মানুষকে। মারা পড়ছে মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল-বাড়িঘর। এভাবে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে হাতি-মানুষের লড়াই।

বিশেষ করে পাকা ধানের মৌসুমে লোকালয়ে হাতির আনাগোনা বেড়ে যায়। পাহাড়ে খাদ্যের অভাবে হাতির দল নেমে আসে কৃষকের ধানখেতে। কৃষকেরা ধান ও জানমাল রক্ষায় মশাল, বল্লম ও পটকা নিয়ে খেত পাহারা দেন। শুরু হয় হাতি-মানুষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। হাতি এখন আগুন ও শব্দে ভয় পায় না। তবে হাতি হত্যার দায় নিতে চান না স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, হাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা।

নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা মুজিবুর রহমান বলেন, ‘হাতির আক্রমণের ভয়ে আমরা রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারছি না। এখন রাত জেগে মশাল নিয়ে বাড়িঘর ও খেত পাহারা

দিচ্ছি। হাতি প্রায় সময়েই আমাদের ফসল খেয়ে যাচ্ছে।’

বন বিভাগের তথ্যমতে, গত এক যুগে শেরপুরের গারো পাহাড়ে মারা পড়েছে অন্তত ৩০টি বন্য হাতি। বিপরীতে হাতির আক্রমণে মারা পড়েছেন ৩৫ জন মানুষ। আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। ক্ষতি হয়েছে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ও ফসলের। তবে বৈদ্যুতিক শকে হাতি মারার ঘটনায় গত তিন বছরে মাত্র তিনটি মামলা করা হয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন শাইনের সভাপতি মুগনিউর রহমান মনি বলেন, হাতি হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নেওয়ায় থামছে না হাতির মৃত্যু। তাই হাতি হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সঙ্গে বনে হাতির পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা ও সীমান্তে অভয়ারণ্য তৈরি করতে হবে। তা হলেই হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, সীমান্তে সোলার ফেন্সি, বায়ো ফেন্সি করে এবং ইআরটি টিমের সংখ্যা বাড়িয়ে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। হাতির কারণে যাঁদের আবাদি ফসল, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাঁদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি কীভাবে দ্রুত নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আ ন ম আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, শেরপুর সীমান্তের বনাঞ্চলে এখন কমবেশি প্রায় ১২০টির মতো হাতি বিচরণ করছে। এগুলো পরিযায়ী হাতি হলেও এখন প্রায় ৪০-৫০টি বন্য হাতি দীর্ঘদিন ধরে শেরপুর সীমান্তে অবস্থান করছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

চোখ উপড়ানো নারীর পরিচয় শনাক্ত, ৮ ঘণ্টা পর কথিত প্রেমিক গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬: ২৪
গ্রেপ্তার সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত
গ্রেপ্তার সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ সদরের কাশিয়াহাটা নলিচাপাড়া এলাকার কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া চোখ উপড়ানো অজ্ঞাত নারীর পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মো. সোহেল রানা (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ সোমবার দুপুরে সদর থানা চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ জানান, নিহত নারীর নাম মোছা. মরিয়ম বেগম (৪৮)। তিনি সদর উপজেলার খোকসাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানা সদর উপজেলার গুনেরগাঁতী গ্রামের মো. আসাদুল্লাহর ছেলে।

পুলিশ সুপার জানান, মরিয়ম বেগম প্রবাসে থাকতেন। প্রায় দুই-তিন বছর ধরে তাঁর সঙ্গে সোহেলের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সোহেল তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তবে মরিয়ম সময় নিতে চাইলে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় এবং তিনি অন্যত্র সম্পর্ক তৈরি করেন বলে পুলিশের ধারণা।

পুলিশ জানায়, ৫ ডিসেম্বর তাঁরা দুজন কাশিয়াহাটা এলাকায় দেখা করেন। সেখানে তাঁদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সোহেল মরিয়মকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ কলাবাগানের ড্রেনে ফেলে রেখে যান। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই নারীর ছেলে মানিক হোসেন সদর থানায় মামলা করেন। সংবাদ সম্মেলনে সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আহসানুজ্জামানসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গতকাল রোববার দুপুরে স্থানীয় লোকজন কাশিয়াহাটা এলাকার আবাদি জমির পাশের একটি কলাবাগানে মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি হত্যাকাণ্ডে মামলা, আসামি অজ্ঞাতনামা

রংপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬: ২৫
নিহত মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
নিহত মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাতে যোগেশ চন্দ্রের বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় বাদী হয়ে এ মামলা করেন। নিহত যোগেশ চন্দ্র রায়ের বাড়ি রংপুরে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামে।

মামলার এজাহার উল্লেখ করা হয়, অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে বাড়িতে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যোগেশ চন্দ্র রায়সহ তাঁর স্ত্রীকে অস্ত্র দিয়ে মাথায় কুপিয়ে হত্যা করে। পুলিশ বলছে, তাঁরা অপরাধীদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছেন।

তারাগঞ্জ উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন বলেন, ‘নতুন ইউএনওকে রোববার ফুল দিয়ে বরণ করা জন্য আমরা উপজেলায় আসি। সেখানে যোগেশের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিনই তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। আমরা কাল থেকেই এখানে। বিজয়ের মাসে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে হত্যা করা লজ্জাজনক। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে, না হলে কঠোর আন্দোলন হবে।’

ইউএনও মোনাব্বর হোসেন বলেন, ‘আজ (সোমবার) সকালে সরেজমিন মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্রের বাড়িতে ঘুরে এসেছি। তাঁর লাশ এখনো আসেনি। মরদেহ আসলে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় তাঁর বড় ছেলে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্তের স্বার্থে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

ছিনতাই প্রতিরোধের দাবিতে থানা ঘেরাও এলাকাবাসীর

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
টঙ্গী পূর্ব থানায় জড়ো হওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। ছবি: আজকের পত্রিকা
টঙ্গী পূর্ব থানায় জড়ো হওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের টঙ্গীতে ছিনতাই প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে টঙ্গীতে থানা ঘেরাও করেছেন এলাকাবাসী। আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানার প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন তাঁরা। পরে বিক্ষুব্ধরা থানা ফটক ছেড়ে ভেতরে প্রবেশ করে স্লোগান দেন।

‎‎বিক্ষুব্ধরা বলেন, ‘বিআরটি প্রকল্পের টঙ্গী বাজার এলাকা থেকে গাজীপুরা বাসস্টেশন পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। গত শনিবার সকালে বিআরটি প্রকল্পের টঙ্গীর বাটাগেট অংশের উড়ালসেতুর ওপর ছিনতাইকারী ছুরিকাঘাতে একজন নিহত হন। এভাবে প্রতিনিয়তই জীবন হারাচ্ছে মানুষ। ছিনতাই আতঙ্কে রয়েছে টঙ্গীর প্রতিটি মানুষ। পুলিশ ছিনতাই রোধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আজ আমরা থানা ঘেরাও করেছি। পরবর্তীকালে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।’

‎জানা গেছে, গত শনিবার সকালে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে সিদ্দিকুর রহমান নামে একজন সরকারি কর্মকর্তা নিহত হন। এ ঘটনায় গতকাল রোববার বিকেলে টঙ্গীর হাজি মাজার বস্তি এলাকা থেকে ইমরান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১। তাঁকে টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

‎টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশের পরিদর্শক তদন্ত মো. আতিকুর রহমান বলেন, র‍্যাব ইমরানকে থানায় হস্তান্তর করেছে। আজ সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তা ছাড়া ছিনতাই প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে টঙ্গীর কয়েক শ এলাকাবাসী থানার সামনে জড়ো হয়েছিলেন। পরে পুলিশের দিয়ে আশ্বাসে তাঁরা ফিরে যান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

নরসিংদীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত, আহত ১০

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি 
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬: ২৫
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মামুন (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন। আজ সোমবার সকালে উপজেলার নিলক্কিয়া ইউনিয়নের গোপীনাথপুর দড়িগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মামুন মিয়া (২২) ওই এলাকার আওয়াল মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন ধরে শহীদ মেম্বারপক্ষের সঙ্গে ফেলুপক্ষের উত্তেজনা চলছিল। তারই জেরে আজ সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় তারা দফায় দফায় হাতবোমা (ককটেল) বিস্ফোরণ, বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে মামুন আহত হন।

গুরুতর আহত অবস্থায় মামুনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে আহত ব্যক্তিদের নামপরিচয় জানা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার আজকের পত্রিকাকে বলেন, খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত