Ajker Patrika

ঈদকে ঘিরে গাংনীর গ্রামগুলোতে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘মাংস সমিতি’

রাকিবুল ইসলাম, গাংনী (মেহেরপুর) 
ঈদকে ঘিরে গাংনীর গ্রামগুলোতে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘মাংস সমিতি’
গাংনী উপজেলার দেবীপুর গ্রাম থেকে আজ সকালে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘মাংস সমিতি’। সমিতির সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে ১০০ টাকা করে জমা দেন। এভাবে বছরে প্রায় ৫ হাজার টাকা জমা হয়। কোনো কোনো সমিতিতে এর চেয়েও বেশি টাকা জমা করা হয়।

মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় গ্রামের অনেক পরিবার একবারে দুই থেকে তিন কেজি মাংস কেনার সামর্থ্য রাখে না। তাই সাপ্তাহিকভাবে অল্প অল্প টাকা জমিয়ে ঈদের ৫ থেকে ১০ দিন আগে গরু কিনে জবাই করা হয়। এরপর সদস্যদের মধ্যে মাংস ভাগ করে দেওয়া হয়। এতে প্রত্যেক সদস্য সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত মাংস পান। এ কারণেই স্থানীয়ভাবে এই উদ্যোগকে ‘মাংস সমিতি’ বলা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক পরিবারের পক্ষে একসঙ্গে ৮ থেকে ১০ কেজি মাংস কেনা সম্ভব নয়। কিন্তু সপ্তাহে ১০০ টাকা করে জমা দিতে তেমন কষ্ট হয় না। এই পদ্ধতির কারণে বর্তমানে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মাংস সমিতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

উপজেলার দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা বজু মোল্লা বলেন, ‘ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আমরা মাংস সমিতি গঠন করেছিলাম। আমাদের প্রত্যেকের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টাকা করে জমা হয়েছিল। সেই টাকায় গরু কিনে জবাই করা হয়েছে। আমরা প্রত্যেকে প্রায় ৮ কেজি করে মাংস পেয়েছি। সপ্তাহে ১০০ টাকা করে জমা দিতে কখনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু একবারে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মাংস কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। গরু কেনার পরও কিছু টাকা অবশিষ্ট রয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ বকুল হোসেন বলেন, ‘ঈদের পরের সপ্তাহ থেকেই সমিতিতে টাকা জমা দেওয়া শুরু হয়। সারা বছর সদস্যরা সপ্তাহে ১০০ টাকা করে দেন। ঈদের ৫ থেকে ১০ দিন আগে পছন্দমতো গরু কিনে জবাই করে মাংস ভাগ করে নেওয়া হয়। এতে যেমন ভালো ও সুস্থ গরুর মাংস পাওয়া যায়, তেমনি একসঙ্গে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচের চাপও থাকে না। বর্তমানে বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা, মহিষের মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস প্রায় ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে তুলনায় সমিতির মাধ্যমে কেনা গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে পড়ে।’

মো. আল নাহিয়ান বলেন, ‘আমরা সমিতির মাধ্যমে গরুর মাংস পেয়েছি প্রায় ৮ কেজি করে। পরে ছাগলের মাংসও এক কেজি করে দেওয়ার কথা রয়েছে। এক বছরে আমাদের প্রায় ৬ হাজার ৫০০ টাকা জমা হয়েছিল। গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন দিন দিন এই মাংস সমিতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।’

গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা সেন্টার বাজারের মাংস ব্যবসায়ী বকুল হোসেন বলেন, ‘ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমরা যে পরিমাণ মাংস বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম, তা হয়তো পূরণ হবে না। কারণ, অধিকাংশ পাড়া-মহল্লায় এখন মাংস সমিতি গড়ে উঠেছে। এতে আমাদের বিক্রি কিছুটা কমে গেছে। তবে লাভ কম হলেও লোকসান হবে না।’

বকুল হোসেন আরও বলেন, বর্তমানে বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা, খাসি বা ছাগলের মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা এবং মহিষের মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের সময়েও এই দাম প্রায় একই থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘সামান্তারা বিক্রি হয়’ মন্তব্য শাহরিয়ারের, ক্ষমা চাইতে বললেন এনসিপি নেতারা

নেতানিয়াহু কোথায়, ভিডিওতে এক হাতে ৬ আঙুল দেখে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

রাত থেকে গণপরিবহনে তেল নেওয়ার সীমা থাকছে না: সড়কমন্ত্রী

মাথাবিহীন লাশটি বরিশালের গোপালের, মাথার খোঁজে নদীতে তল্লাশি

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন: সময় শেষ, এখন কী হবে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত