মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় ১০ কোটি টাকার প্রকল্প
বেনামে কাজ নেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ড্রাফটসম্যান শাহিন আলম
কাজ পেয়েছেন অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদুজ্জামানের যোগসাজশে

মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। সেই কাজ একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে বাগিয়ে নেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ড্রাফটসম্যান শাহিন আলম। এখন সেই প্রতিষ্ঠান লাপাত্তা। মেয়াদ শেষ হলেও কাজ শেষ হয়নি।
এদিকে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানেনও না, কত টাকা বিল তুলেছে সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, মৌলভীবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদুজ্জামানের যোগসাজশে এই কাজ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার সদর ও রাজনগর উপজেলায় মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যবিধি শীর্ষক প্রকল্পের কাজ প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড লিবার্টি ট্রেডার্স (জেবি) নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০ কোটি টাকার এই কাজ পায় ২০২৩ সালে। কাজটি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় কয়েকবার কাজের সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপরেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোটি টাকার বিল তুলে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে।
জানা যায়, প্রকল্পটির কার্যক্রম ২০২৫ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের যৌথ বাস্তবায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। এর অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবি। ২০২১ সালে মৌলভীবাজারসহ ৩০টি জেলার ৯৮টি উপজেলায় প্রত্যন্ত এলাকায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থার জন্য পাইপলাইনভিত্তিক পানি সরবরাহের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে কমিউনিটিভিত্তিক পাইপলাইন দিয়ে হতদরিদ্র ও প্রান্তিক ৩০-৪০টি পরিবারে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার কথা। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারও স্থাপন করার কথা এই প্রকল্প থেকে। তবে মৌলভীবাজারে এই প্রকল্পের কাজ থমকে আছে এক বছর ধরে।
মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুটি উপজেলার সব ইউনিয়নে ৭৬টি পানি সরবরাহ লাইন বসানোর কথা ছিল। এর মধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ৩৮টির মধ্যে ২২টিতে আংশিক কাজ হয়েছে। তবে রাজনগর উপজেলার ৩৮টিতে একেবারেই কাজ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক বছর ধরে উধাও হয়েছে।
সরেজমিনে রাজনগর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যবিধি শীর্ষক প্রকল্পের কাজের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। স্থানীয়রাও এই প্রকল্প সম্পর্কে জানেন না। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের কির্তার মহল এলাকায় দেখা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আংশিক কাজ করেছে। পরে স্থানীয়রা নিজস্ব অর্থায়নে মোটর, পাইপ ও বিদ্যুতের মিটার সংযোগ করে নিজেরাই পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছেন।
কির্তার মহলের বাসিন্দা সুমন মালাকার বলেন, ‘আমরা প্রায় ১ বছর আগে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ করে পানির লাইন সচল করেছি। আমাদের এখানে ৩০টি পরিবার এই লাইন থেকে পানি সরবরাহ পায়। এখানে মোটর, পাইপ, মিটার, ওপরে যাওয়ার জন্য সিঁড়িসহ কিছুই দেওয়া হয়নি। কষ্ট করে আমরা নিজস্ব টাকা দিয়ে ঠিক করেছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে পাইপ লাগিয়ে ছিল, তা কয়েক দিনের মধ্যেই ফেটে গেছে। ছোট ছোট পাইপ লাগানো হয়েছে। খুব নিম্ন মানের কাজ হয়েছে।’
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর ও স্থানীয়রা সূত্র জানিয়েছে, মৌলভীবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদুজ্জামান কুমিল্লা জেলায় কর্মরত ছিলেন। এই সুবাদে কাজটি পায় কুমিল্লার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচালক শাহিন আলম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরে কর্মরত আছেন। তিনি নিজের নামে লাইসেন্স না করে বিভিন্ন সময় অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ করেছেন।
এদিকে প্রকল্পের কাজ কতটুকু হয়েছে এবং কী পরিমাণ বিল ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তুলে নিয়েছে সেটা জানে না জেলা ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর। প্রকল্পের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদুজ্জামানের অফিসে গিয়ে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেন এই প্রতিবেদক। তবে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। এ ছাড়া তাঁর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়েও সাড়া মেলেনি।
শাহিন আলম একসময় ফেনী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ড্রাফটসম্যান ছিলেন। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে চাকরিতে যোগ দেন ২১ হাজার ৪৭০ টাকা বেতন স্কেলে। এর আগে গত বছরের ১৮ জুন আজকের পত্রিকায় তাঁকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, শাহিন আলম ২০১৮ সালে তৎকালীন রেলপথমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের সুপারিশে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ড্রাফটসম্যান হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। ৬ বছরে তিনি শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্রাক্কলনিক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এই কাজের বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। কত টাকা বিল উত্তোলন হয়েছে তা আমরা জানি না। কাজ হয়েছে একেবারে যে হয়নি তা নয়। আমরা নতুন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেব এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য।’
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরে চাকরি করে কীভাবে শাহিন আলম এই কাজ পেলেন এর জবাবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্প) প্রকল্প পরিচালক তবিবুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘সে তার নিজের নামের লাইসেন্স নিয়ে কাজ করায়নি। অন্য লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ পেয়েছে।’ শাহিন আলম এই কাজ পাওয়ার পেছনে খালেদুজ্জামানের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি বলতে পারব না, তবে কাজ প্রক্রিয়া অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেয়েছে।’
তবে প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড লিবার্টি ট্রেডার্স (জেবি) নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বলেন, মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের খুবই ঘনিষ্ঠ। এই কাজ করছেন শাহিন আলম। তিনি অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এই কাজ করছেন। শুধু এই কাজ নয় আরও অনেক কাজ করছেন শাহিন আলম।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচালক রমিজ মিয়া বলেন, ‘এই কাজের মালিক হচ্ছে শাহিন নামে একজন। সে জনস্বাস্থ্যে চাকরিও করেন আবার ঠিকাদারিও করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সে (শাহিন) ঠিকমতো কাজ করেন না, এ জন্য আমি চলে এসেছি। এখন কী অবস্থা আমি জানি না। আমি থাকা অবস্থায় ৯০ লাখ টাকার বিল তুলেছিলাম। এরপর টাকা তুলছে কি না আমার জানা নেই। অফিসের সিস্টেম অনুযায়ী কাজ পেতে হলে সবাইকে খুশি করতে হয়।’
এ নিয়ে কথা বলতে শাহিন আলমের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।

পরীক্ষার কক্ষে সবাই বেঞ্চে বসে লিখে যাচ্ছেন খাতায়। তাঁদের পাশে বসে লিখছেন আরেক শিক্ষার্থী কলি রানী। তাঁকে দেওয়া হয়েছে ছোট বেঞ্চ। আর সেখানে বসেই মনোযোগসহকারে পা দিয়ে উত্তর লিখে যাচ্ছেন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
মৌলভীবাজারে তীব্র ওষুধসংকট, জনবল ঘাটতি, দায়িত্বে অবহেলাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। ফলে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় ১১ লাখ মানুষ এসব ক্লিনিক থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।
২ ঘণ্টা আগে
আড়াই বছর ধরে থমকে রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কৃষি যান্ত্রিকীকরণের প্রকল্প। গত ১১ মাস বেতন পাচ্ছেন না প্রকল্পটির ৭৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্পটির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতার কারণে টাকা থাকা সত্ত্বেও সারা দেশে এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হরপাড়া এলাকার আল মদিনা জামে মসজিদের পাশের রেললাইনের কাছ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
৫ ঘণ্টা আগে