Ajker Patrika

মাদক ও অবৈধ পণ্য প্রবেশে ঝুঁকিতে মৌলভীবাজার সীমান্ত

মাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার
আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৫: ০৫
মাদক ও অবৈধ পণ্য প্রবেশে ঝুঁকিতে মৌলভীবাজার সীমান্ত
কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে ভারতের অংশে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও বাংলাদেশের সীমান্ত অংশ খোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

মৌলভীবাজার বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা একটি জেলা। জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় ২৭১ কিলোমিটার এলাকা ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী। বিস্তীর্ণ এই সীমান্ত দিয়ে নিয়মিত ভারত থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ও পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের চোখে পড়লে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। তবে বিজিবিকে ফাঁকি দিয়ে যে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করে, তার আর কোনো খোঁজ মেলে না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দুর্গম সীমান্ত এলাকা, কাঁটাতারের অভাব ও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে চোরাকারবারিরা সহজে মাদক ও চোরাই পণ্য দেশে নিয়ে আসছে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা গেলে এ ধরনের অবৈধ প্রবেশ অনেকাংশে কমে আসবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতের অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সীমান্তজুড়ে রয়েছে উন্নত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা। দুর্গম এলাকাতেও সহজে গাড়ি নিয়ে সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

অন্যদিকে বাংলাদেশের অংশে অধিকাংশ এলাকায় নেই কাঁটাতারের বেড়া কিংবা সীমান্তে পৌঁছানোর মতো সড়ক যোগাযোগ। অনেক স্থানে বিজিবি সদস্যদের ক্যাম্প থেকে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছাতে দুই থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা দুর্গম পথ অতিক্রম করতে হয়। এসব এলাকায় রয়েছে ঘন জঙ্গল। রাতের বেলা কয়েক হাত দূরেও কিছু দেখা যায় না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সীমান্তে কাঁটাতার ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে অবৈধ মাদক ও চোরাইপণ্যের অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।

বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা যায়, গত এক বছর দুই মাসে তারা ১৭২টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে প্রায় ১২ কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার পাঁচটি উপজেলা-কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, জুড়ী ও বড়লেখার সঙ্গে ভারতের প্রায় ২৭১ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার সীমান্তের দায়িত্বে রয়েছে বিজিবি-৪৬ ব্যাটালিয়ন। জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার দায়িত্বে রয়েছে বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়ন।

এই সীমান্ত দিয়ে নিয়মিত চোরাই পণ্য, ইয়াবা, মদ, নিষিদ্ধ সিগারেট ও বিড়ি, মহিষ, গোলাবারুদ, কাপড়, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বিশেষ করে রাতের আঁধার ও ভোরবেলায় এসব পণ্য পাচার করা হয়। বিজিবির নজরে পড়লে সেগুলো জব্দ করা হয়, অন্যথায় দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ছাড়া সীমান্ত এলাকার দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে সম্প্রতি এই সীমান্ত দিয়েই সবচেয়ে বেশি মানুষকে বাংলাদেশে পুশ ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে তারা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। তবে অনেক সীমান্ত এলাকা এতটা দুর্গম যে ক্যাম্প থেকে সেখানে পৌঁছাতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। বেশির ভাগ এলাকা পাহাড়ি ও জঙ্গলে ঘেরা।

বিজিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ভারতের অংশে কাঁটাতারের বেড়া ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশের অনেক সীমান্ত এলাকা এখনো অবকাঠামোগত সুবিধাবঞ্চিত। নতুন উদ্যোগ নিয়ে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও সড়ক নির্মাণ করা জরুরি। এতে অবৈধভাবে পণ্য প্রবেশ অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব হবে।

কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এই সীমান্ত দিয়ে নিয়মিত বিড়ি, সিগারেট, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে আসে। অধিকাংশ সময় রাত ও ভোরে এসব পণ্য পাচার হয়। পরে সেগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সীমান্ত এলাকায় রাতে মানুষের চলাচল খুব কম থাকে। এই সুযোগে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র কয়েক মিনিটের মধ্যে পণ্য নিয়ে পালিয়ে যায়। অনেক সময় নদীপথ ব্যবহার করেও চোরাই পণ্য বাংলাদেশে আনা হয়।

মৌলভীবাজারের সচেতন নাগরিক নজমুল ইসলাম ও সাকের আহমেদ বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হলেও দেশের অনেক সীমান্ত এখনো পুরোপুরি নিরাপদ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেশী দেশ থেকে প্রতিনিয়ত নেশাজাতীয় মাদক দেশে প্রবেশ করছে, যা যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নতুন সরকারের কাছে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসইউপি মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত প্রয়োজন। যদিও এটি ব্যয়বহুল, তবু সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য এটি জরুরি। সিলেট বিভাগের জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, জুড়ী, বড়লেখা, কুলাউড়াসহ বেশ কয়েকটি সীমান্ত এলাকা অত্যন্ত দুর্গম। এসব এলাকার সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিশ্ববাজারে কেন সোনা-রুপার দাম কমছে, আরও কত কমবে

‘ইরানের বিনাশ নিশ্চিত’, এরপর দেশের ভেতরেই প্রধান শত্রু খুঁজে পেয়েছেন ট্রাম্প

‘রাফার আব্বু তুমি আমারে মাফ করিয়া দিয়ো’

বিদ্যুৎ-জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা করলে যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে ইরান, তালিকা দিল আইআরজিসি

ইরান যুদ্ধ: কোন দেশগুলোর অর্থনীতি সর্বাধিক ক্ষতির মুখে, নাজুক অবস্থানে কারা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত