Ajker Patrika

পাটুরিয়া-আরিচা ঘাটে যাত্রীর চাপ বাড়লেও ভোগান্তি নেই

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি  
আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১৮: ৫৪
পাটুরিয়া-আরিচা ঘাটে যাত্রীর চাপ বাড়লেও ভোগান্তি নেই
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে ফেরিতে ঘুরমুখী মানুষের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এবং উত্তরবঙ্গগামী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুট আরিচা ঘাটে ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে এবার ভোগান্তি ছাড়াই তুলনামূলক স্বস্তিতে পদ্মা ও যমুনা নদী পারাপার হচ্ছে ঘরমুখী মানুষ।

আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়লেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। দুপুর ১২টার পর যানজট অনেকটাই কমে আসে। বর্তমানে ঘাটে আসা যানবাহনগুলোকে অপেক্ষা ছাড়াই দ্রুত ফেরিতে ওঠানো হচ্ছে, ফলে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

অন্যদিকে আরিচা ঘাটেও সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ লক্ষ করা গেছে। ফেরি, লঞ্চ, স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাত্রী পারাপার অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে স্পিডবোট ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে দ্রুতগতির কারণে অনেকেই এই মাধ্যমকে বেশি পছন্দ করছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, ঈদে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৭টি ফেরি এবং আরিচা-কাজিরহাট রুটে পাঁচটি ফেরি চালু রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৩টি লঞ্চ ও ৬৭টি স্পিডবোট চলাচল করছে।

জরুরি পণ্য, শিশুখাদ্য ও পচনশীল দ্রব্যবাহী যানবাহন ছাড়া অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় ঘাট এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়নি। প্রয়োজনে অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া রুটে ফেরি স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেশির ভাগ যানবাহন সেতুপথ ব্যবহার করলেও কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, যশোর, মাগুরা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী অঞ্চলের অনেক পরিবহন এখনো পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুট ব্যবহার করছে।

গাজীপুর থেকে কুষ্টিয়াগামী যাত্রী কাজী বারেক বলেন, পরিবার নিয়ে ঘাটে এসে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই লঞ্চে উঠতে পেরেছেন। আগে এই ঘাটে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হতো, তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে।

পরিবহনচালক জামাল মৃধা বলেন, ‘আগে ঈদের সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এবার তেমন কোনো ভোগান্তি নেই। আজও অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়ি নিয়ে ফেরিতে উঠতে পেরেছি।’

পাবনাগামী পোশাককর্মী আসমা আক্তার জানান, তিনি আরিচা ঘাট হয়ে পাবনায় যাচ্ছেন। ঘাটে এসে স্পিডবোটে পারাপারের জন্য কিছুটা লাইনে দাঁড়াতে হলেও দ্রুত যাতায়াতের কারণে সেটি তেমন ভোগান্তি মনে হয়নি। তাঁর ভাষায়, স্পিডবোটে অল্প সময়েই কাজিরহাট পৌঁছানো যায়, তাই এই পথ এখন অনেক সহজ মনে হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন পারাপার নিশ্চিত করতে বাস ও প্রাইভেট কারের জন্য আলাদা লেন চালু রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ঘাট এলাকা এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছে। সকালে কিছুটা যানবাহনের চাপ থাকলেও বর্তমানে তা কমেছে। অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলায় দ্রুত পারাপারের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

দুই বছরের কন্যাকে নিয়ে ২৩ তলা থেকে বাবার ঝাঁপ, দুজনেরই মৃত্যু

সব লঞ্চার ‘ধ্বংসের’ পরও এত ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র কীভাবে ছুড়ছে ইরান, আর কত অবশিষ্ট

১৯ বছর পর চাকরি ফিরে পেলেন পুলিশের ৩৩০ এসআই ও সার্জেন্ট

ইরান এতগুলো দেশে হামলা চালাবে ভাবিনি, আমরা হতবাক: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ বিলিয়ন ডলারের রণতরিতে ৩০ ঘণ্টা ধরে আগুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত