Ajker Patrika

একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও ফ্যাসিবাদের দোসররা এক হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি  
একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও ফ্যাসিবাদের দোসররা এক হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেছেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও আওয়ামী লীগের দোসররা একত্র হয়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তি ডিসেম্বরে আমাদের পতনের কথা বলে। আর দিল্লিতে বসে ফ্যাসিবাদের দোসররা বলে, ডিসেম্বরে ফিরে এসে আমাদের দেখে নেবে। আজ দুই অপশক্তি একত্রিত হয়েছে আমাদের দেখে নেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু কেন? কারণ আমরা জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পেরেছি এবং তাদের ভালোবাসা অর্জন করতে পেরেছি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কোনো প্রতিবেশী প্রভু নেই, আছে কেবল বন্ধু।’

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রসঙ্গে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি করে জনমনে অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।

সার ডিলারশিপ প্রসঙ্গে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যাঁদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের কেউ কেউ ফ্যাসিবাদের এজেন্ট হলেও গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। সরকারের কোনো রাজনৈতিক বিদ্বেষ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘কুইক রেন্টাল মূলত ছিল চোরের রেন্টাল।’ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে দিয়ে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রশ্ন রাখেন, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অনেকগুলো এখন কোথায় এবং কেন সেগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দলের নেতা দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। জাতিসংঘে তাঁর বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তাঁর নেতৃত্বের স্বীকৃতি এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিপক্ষরা বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কোথাও পটকা ফাটানো, মিছিল কিংবা ব্যানার টাঙানোর মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলার জমিনে, বিশেষ করে মানিকগঞ্জের মাটিতে, কাউকে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া যাবে না। ফ্যাসিস্টদের যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।’

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে, তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিজয়ী করার জন্যও নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আজাদ খানের সভাপতিত্বে এবং জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, অ্যাডভোকেট এ এফ এম নূরতাজ আলম বাহারসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

আলোচনা সভা শেষে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত