Ajker Patrika

শিশু আতিকা হত্যা: প্রধান আসামি কিশোর গ্রেপ্তার, মামলা হয়নি দুজনকে হত্যার ঘটনায়

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি  
শিশু আতিকা হত্যা: প্রধান আসামি কিশোর গ্রেপ্তার, মামলা হয়নি দুজনকে হত্যার ঘটনায়
আতিকা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় সাত বছর বয়সী শিশু আতিকা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে শিশু আতিকার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

শিশুটির মা আরিফা আক্তার বাদী হয়ে আজ শনিবার দুপুরে সদর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এতে নাঈমসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন গ্রেপ্তার কিশোরের বাবা পান্নু মিয়া, চাচা ফজলু মিয়া, ভাই নাজমুল হোসেন এবং একই গ্রামের রনি (২২)। তাঁদের মধ্যে পান্নু মিয়া ও ফজলু মিয়া সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার কিশোর সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা পান্নু মিয়া ও চাচা ফজলু মিয়া গত বৃহস্পতিবার রাতে পিটুনিতে নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া কিশোরটির ভাই নাজমুল হোসেন গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে নিখোঁজ হয় আতিকা। পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয় এক শিশুর তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে প্রধান আসামি করা কিশোরকে শনাক্ত করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই রাতেই বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেত থেকে গলায় কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় আতিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা কিশোরটির বড় ভাই নাজমুলকে আটক করে এবং পরে তার বাবা পান্নু মিয়া ও চাচা ফজলু মিয়াকে ডেকে এনে মারধর করে। রাত ১১টার দিকে পিটুনিতে পান্নু ও ফজলুর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত নাজমুলকে উদ্ধার করে প্রথমে মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে আতিকা আক্তারের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। একই দিন পান্নু ও ফজলুর মরদেহও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সারওয়ার আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কিশোর আদালতে তোলা হবে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

একই ঘটনায় দুজনকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়ে থানায় কেউ মামলা করেননি বলে জানান সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত