Ajker Patrika

অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর পায়ের রগ কেটে ফেললেন চিকিৎসক

মাদারীপুর, প্রতিনিধি
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৩৬
অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর পায়ের রগ কেটে ফেললেন চিকিৎসক
চিকিৎসক মাহমুদুল হাসানের চেম্বার। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাদারীপুরে টিউমারের অপারেশন করাতে গিয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন আনু বেগম (৫৫) নামে এক নারী। ভুল চিকিৎসায় তাঁর পায়ের রগ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি ক্লিনিকের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। দুই দফায় অপারেশন করেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন রোগী ও স্বজনেরা।

আজ শনিবার স্বজনেরা জানান, সদর উপজেলার চর কালিকাপুর গ্রামের আনু বেগম পায়ে ব্যথা নিয়ে শহরের নুর জাহান সেলিম নিরাময় হাসপাতালের চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান মাসুমের পরামর্শ নেন। তাঁর নির্দেশে ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স রেসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরে চিকিৎসক মাহমুদুল অস্ত্রোপচারের কথা জানান। গতকাল শুক্রবার সকালে পায়ের গোড়ালিতে টিউমার অপারেশন শুরু করেন চিকিৎসক। দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন তিনি।

এ সময় পায়ের রগ কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। এতে রোগীর পা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এরপর একই প্রতিষ্ঠানের অন্য চিকিৎসক রুহুল আমিন চয়নের নেতৃত্বে ফের অস্ত্রোপচার চালানো হয়। তিন ঘণ্টা পর রোগীকে দেওয়া হয় বেডে। ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে অভিযুক্তের বিচার দাবি করেছেন রোগী ও স্বজনেরা।

এদিকে, এরই মধ্যে ওষুধপত্রসহ অসহায় ভুক্তভোগীর চিকিৎসা খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। হাসপাতালের বিল করা হয়েছে আরও ৭০ হাজার টাকা। এই ব্যয় বহন করা আনু বেগমের স্বামী কৃষক বুলু খানের পক্ষে কষ্টাসাধ্য।

আনু বেগমের ছেলে বাবলু খান বলেন, ‘চিকিৎসকের ভুল অপারেশনে আমার মায়ের এই ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান মাসুমের বিচার চাই।’

আনু বেগম বলেন, ‘আমি হেঁটে ক্লিনিকে এসেছি কিন্তু ডাক্তার না বুঝেই অপারেশন করে পায়ের রগ কেটে ফেলেছেন। অপারেশন করতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। ভবিষ্যতে আমার হাঁটাচলা করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’

তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান মাসুমের দাবি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট ভুল থাকায় এমন ঘটনা হয়েছে। পরে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন আসলে যৌথ চিকিৎসকের সমন্বয়ে দ্বিতীয় দফা অপারেশন করা হয়। এতে রোগীর তেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফুল আবেদিন কমল। তিনি বলেন, ‘টিউমার অপারেশন করাতে গিয়ে এমন ঘটনার দায়ভার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারেন না।’

জানা গেছে, অভিযুক্ত চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান মাসুম রাজধানী ঢাকার মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি প্রতি শুক্রবার সারা দিন মাদারীপুর শহরের নুর জাহান সেলিম নিরাময় হাসপাতালের রোগী দেখেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত