Ajker Patrika

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, শিক্ষক ইমরান হোসেন চাকরিচ্যুত

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি 
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, শিক্ষক ইমরান হোসেন চাকরিচ্যুত
ইমরান হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের হায়দরগঞ্জ দারুল কোরআন ইসলামিক একাডেমিতে এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। দুই মাস আগে ধারণ করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার শিক্ষক ইমরান হোসেন শিশুটির মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে নির্যাতন করছেন। এই ঘটনায় দুই মাস আগেই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইমরান হোসেন মাদ্রাসার এক ছোট শিশুর মুখে বেত ঢুকিয়ে নির্যাতন করছিলেন। আতঙ্ক ও যন্ত্রণায় শিশুটির কান্না বাড়লেও শিক্ষক থামেননি। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে।'

অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়। গত তিন দিন ধরে ভিডিওটি ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি তা মুছে দিয়ে নিজের আইডিগুলো বন্ধ করে দেন।

দারুল কোরআন ইসলামিক একাডেমি। ছবি: সংগৃহীত
দারুল কোরআন ইসলামিক একাডেমি। ছবি: সংগৃহীত

এ ঘটনায় গতকাল শনিবার ফেসবুক লাইভে এসে ইমরান হোসেন বলেন, `ভিডিওটি আমিই করে তা পোস্ট করেছি। পরীক্ষার সময় সে পড়া না পেরে কান্না করায় আমি কান্না থামাতে দুষ্টামির ছলে এমন করেছি। ওই সময় শিশুটির অভিভাবকও উপস্থিত ছিলেন। আমি বিষয়টি ভুল করেছি। আমার অন্যায় হয়েছে। আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সংশোধন করব নিজেকে।'

হায়দরগঞ্জ দারুল কোরআন ইসলামিক একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা এবং হায়দরগঞ্জ তাহেরীয়া আর এম কামিল মাদ্রাসার বিএসসি শিক্ষক মো. মনজুর আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, `দুই মাস আগেই নারী সংক্রান্ত ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে ইমরান হোসেনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই সময় প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নিয়ে তিনি পালিয়ে যান। এর পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধই রয়েছে।'

মঞ্জুর আহমেদ আরও জানান, ইমরান একজন টিকটকার ছিলেন এবং মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুরু থেকেই তাঁর আচরণে নানা অসংগতি লক্ষ করা যায়। শিশুশিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, অকারণে শাস্তি প্রদান এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে তাঁকে কয়েকবার সতর্কও করা হয়েছিল।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, `বিষয়টি সম্পর্কে আমরা খোঁজ-খবর নিয়েছি। অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকার বাইরে রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁরা অভিযোগ করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত