Ajker Patrika

ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী বিগত ১৭ বছর সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে: ইবি উপাচার্য

ইবি সংবাদদাতা
ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী বিগত ১৭ বছর সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে: ইবি উপাচার্য
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, গত ১৭ বছর নিয়মিত বিভিন্ন টেলিভিশন টক শোতে অংশ নিয়েছি। এ সময়ে অসংখ্য রাত নির্ঘুম কাটাতে হয়েছে। অনেক সময় রাত দেড়টার দিকে শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে টেলিভিশন চ্যানেল থেকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছেন। ডিজিএফআই ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি এবং টেলিফোন পর্যবেক্ষণের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারিনি।

আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের গগন হরকরা মিলনায়তনে ‘চব্বিশের জুলাই: জন আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গ্রিন ফোরাম সেমিনারটির আয়োজন করে।

উপাচার্য বলেন, চব্বিশের আন্দোলনকে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে বাংলাদেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। এ আন্দোলনে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। ভ্যানচালক, রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ, অসহায় নারী, পানি ও পান বিক্রেতাসহ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন। সমাজের প্রতিটি স্তরেই জুলাইয়ের যোদ্ধারা রয়েছেন, যাঁদের অনেকে এখনো দৃশ্যপটে আসেননি। ফ্যাসিস্ট সরকার ও তাদের সহযোগীদের বাইরে এ দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষই জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্বের দাবিদার।

উপাচার্য আরও বলেন, গত ১৭ বছর একটি ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী সমাজের প্রতিটি স্তরে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগীদের আড়াল করে অসংখ্য ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করা হয়েছে। এভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে আড়াল করে মুক্তিযুদ্ধকে একটি দলীয় গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

সেমিনারে ইবি গ্রিন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। গ্রিন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ওবাইদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান।

এ সময় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ নাজিমুদ্দিন, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানূর রহমান, অধ্যাপক ড. আবু সিনা, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আলিনূর রহমান, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদ মুহাম্মদ রেজওয়ান, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দিন মিঝি, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত