
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আব্দুল্লাহ প্রামাণিক লাম (১৭) নামের এক স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে। কোরআন অবমাননার অভিযোগে কথিত পীর আবদুর রহমান শামীম (৬৫) হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে সে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পরিবারের। ওই স্কুলশিক্ষার্থী স্থানীয় পিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল এবং ওই এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল উপজেলার ফিলিপনগরে শামীমের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পর তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় হওয়া মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
লামের বড় ভাই আলিফ ইসলাম (২৩) এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ছিল পরিবার। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন লাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে ভাঙচুরে অংশ নেয়। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে তাকে ঢাকার আশুলিয়ায় খালার বাসায় পাঠানো হয়।
গত শনিবার দুপুরে আশুলিয়া থানা এলাকার খালার ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে লাম। গতকাল রোববার ময়নাতদন্ত শেষে রাত ১১টার দিকে ফিলিপনগরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
লামের বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে আলিফ পীর হত্যার ঘটনায় জড়িত না, তবুও ভিডিও ফুটেজের কথা বলে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। লাম ছোট মানুষ, ঘটনার দিন সবার সঙ্গে দেখতে গিয়েছিল। ভাই গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ভয় ও দুশ্চিন্তা থেকেই হয়তো আত্মহত্যা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তো এক ছেলে হারিয়েছি। আরেক ছেলেকে যদি প্রশাসন নির্দোষ বিবেচনায় ছেড়ে দিত, তাহলে কৃতজ্ঞ থাকতাম।’
রবিউল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী আলিফের বয়স ১৮ বছর হলেও তাঁকে ২৩ বছর দেখানো হয়েছে। আলিফ বাজারে সবজি বিক্রি করতেন।
এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে দুই দিনের এবং বিপ্লব হোসেন (২৬) ও আলিফ ইসলামকে এক দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ফিলিপনগর এলাকায় শামীমের আস্তানা উচ্ছেদ ও তাঁর কার্যক্রম বন্ধ করা। তবে হামলায় অংশ নেওয়া একটি পক্ষ শুধু ভাঙচুর ও উচ্ছেদে জড়িত থাকলেও, আরেকটি পক্ষ সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।
পুলিশের দাবি, ঘটনার অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই হামলার পরিকল্পনা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পুরোনো ভিডিওর অংশ ছড়িয়ে জনসাধারণকে উসকে দেওয়া হয়েছিল। এরপর উত্তেজিত জনতা শামীমের আস্তানায় হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি চলে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।
তদন্তের স্বার্থে অনেক তথ্য গোপন রাখা হলেও হামলায় নেতৃত্বদানকারী ও জড়িত অন্তত ৩৫ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার নেপথ্যের কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আলিফের ছোট ভাই লামের আত্মহত্যার বিষয়টি শুনেছি। কেউ ভয় থেকে আত্মহত্যা করলে সেখানে পুলিশের কিছু করার থাকে না। তবে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় লামের সংশ্লিষ্টতা ছিল। ভিডিও ফুটেজ দেখে আলিফকেও শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল নিহত শামীমের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানা হত্যা মামলা করেন। মামলায় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদ ও খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় একটি বাসার বেজমেন্ট থেকে গতকাল রোববার দুপুরে একটি মরদেহের সাতটি টুকরো উদ্ধার করে পুলিশ। সেই মরদেহের মাথা গতকাল রাতে মানিকনগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
২৭ মিনিট আগে
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মোস্তাকিম কামাল তামিম (২২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র নিহত হয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। আজ সোমবার (১৮ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন।
১ ঘণ্টা আগে
নড়াইলে মুরগি বহনকারী পিকআপের সঙ্গে ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপের হেলপার নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নড়াইল-লোহাগড়া সড়কের উপজেলার তালতলা-ঘোষবাড়ি এলাকায় পল্লিবিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
১ ঘণ্টা আগে