Ajker Patrika

পান কিনতে পাঠিয়ে কিশোরের ভ্যান নিয়ে চম্পট যাত্রী, কিস্তি নিয়ে বিপাকে পরিবার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
পান কিনতে পাঠিয়ে কিশোরের ভ্যান নিয়ে চম্পট যাত্রী, কিস্তি নিয়ে বিপাকে পরিবার
শুক্রবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয় বাবা-ছেলে। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকায় এক অভিনব প্রতারণার শিকার হয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর ভ্যানচালক। কৌশলে তাকে পান কিনতে পাঠিয়ে তার উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম, ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে গেছে এক যাত্রী।

গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এই চুরির ঘটনা ঘটে। শেষ সম্বল ও আয়ের একমাত্র উৎসটি হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তা ও দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে কিশোর চালক রাজু ও তার পরিবার।

রাজু কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা বাহাদুরের ছেলে। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত অসুস্থ বাবার সংসারের হাল ধরতে এবং চার সদস্যের মুখে অন্ন জোগাতে পড়াশোনা ছেড়ে অল্প বয়সেই তাকে ভ্যান চালকের পেশা বেছে নিতে হয়েছিল।

ভুক্তভোগী কিশোর রাজু জানায়, শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ভেড়ামারা এলাকা থেকে এক ব্যক্তি মালামাল বহনের কথা বলে তার ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি ভাড়া করেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজুকে নিয়ে কুষ্টিয়া শহরের ব্যস্ততম পাঁচ রাস্তার মোড়ে আসেন ওই যাত্রী।

সেখানে পৌঁছানোর পর অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে রাজুকে পাশের একটি দোকান থেকে পান কিনে আনার অনুরোধ করেন ওই ব্যক্তি। রাজু সরল বিশ্বাসে পান কিনতে যায়। কিন্তু দোকান থেকে পান নিয়ে ফিরে এসে সে দেখতে পায়, যাত্রী ও তার ভ্যান—কোনোটিরই অস্তিত্ব নেই।

ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে আশপাশের এলাকায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানটির কোনো হদিস পায়নি অসহায় রাজু।

রাজুর বাবা বাহাদুর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত। শারীরিক অক্ষমতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কোনো কাজ করতে পারেন না। স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে ভ্যানটি কিনে দিয়েছিলেন ছেলেকে।

অশ্রুসজল চোখে বাহাদুর বলেন, আমার হার্টের অসুখ, কোনো ভারী কাজ বা ভ্যান চালাতে পারি না। স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে আমাদের সংসার। অর্থাভাবের কারণে বড় ছেলে রাজুকে স্কুলেও পাঠাতে পারিনি। এই ভ্যানটি চালিয়ে ও যা আয় করত, তা দিয়েই আমাদের টেনেটুনে সংসার চলত। এখন ভ্যানটাই চুরি হয়ে গেল।

তিনি আরও যোগ করেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ভ্যানটি কিনেছিলাম, প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে কিস্তির টাকা শোধ করতে হয়। এখন ভ্যানও নেই, উপার্জনের পথও বন্ধ। কীভাবে সংসার চলবে আর কিস্তির টাকাই বা কীভাবে শোধ করব, কিছুই বুঝতে পারছি না। আমরা এখন সর্বস্বান্ত।

ভ্যানটি ফিরে পাওয়ার আশায় রাজুর পরিবার বর্তমানে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

এই চুরির ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা ঘটনাটি জানতে পারলে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করব। চক্রটিকে শনাক্ত ও ভ্যানটি উদ্ধারে পুলিশ প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত