Ajker Patrika

চা বিক্রেতাকে হত্যা করে আত্মগোপন, শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

চা বিক্রেতাকে হত্যা করে আত্মগোপন, শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
দৌলতপুরে চা বিক্রেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের তেকালা গ্রামের চা বিক্রেতা সামিরুল শাহ (৬০) হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পূর্বের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ফোন করে ডেকে নিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে তারা। এ ঘটনায় প্রধান আসামি মুন্টু হোসেনকে (৫০) মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গতকাল রোববার দুপুরে রাজৈর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদারীপুর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় মুন্টুকে গ্রেপ্তার করে দৌলতপুর থানা-পুলিশ। তিনি উপজেলার তারাগুনিয়া থানা মোড় এলাকার মকসেদ মিস্ত্রির ছেলে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহসিন হোসেন বলেন, পূর্বের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সামিরুল শাহকে ফোন করে ডেকে নেওয়া হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ব্যবহৃত ছুরিটি ঘটনাস্থলের পাশের একটি ঝোপে ফেলে রাখা হয়। গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যায় সেটি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর মুন্টু আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে রাজৈরে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত সামিরুল শাহ তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বিশারদ শাহের ছেলে। তিনি পেশায় চা বিক্রেতা ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁদের আদি বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা দৌলতপুরের তেকালা গ্রামে বসবাস করে আসছেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহতের বড় ছেলে আবু সাঈদ দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

আবু সাঈদ জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি, তাঁর বাবা ও দুই মামা উপজেলার বড়গাংদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তারাগুনিয়া থানা মোড় এলাকায় পৌঁছালে মুন্টু তাঁর বাবাকে ফোন করে দেখা করতে বলেন। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে একাই যেতে বলেন। এরপর সামিরুল শাহ পরিবারের সদস্যদের বাড়ি যেতে বলে মুন্টুর সঙ্গে চলে যান। এর পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ও রাতে একাধিকবার মুন্টুর কাছে খোঁজ নিলেও তিনি সন্তোষজনক কোনো তথ্য দেননি। পরদিন সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, ধর্মদহ গ্রামের ব্যাংগাড়ি-ধর্মদহ সড়কের পাশের একটি মাঠে বাঁশের মাচার ওপর তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে।

খবর পেয়ে তেকালা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত