Ajker Patrika

কুড়িগ্রামে মালবাহী ট্রাক্টরের ভারে ভেঙে পড়ল সেতু, আহত ৬

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে মালবাহী ট্রাক্টরের ভারে ভেঙে পড়ল সেতু, আহত ৬
সেতুটি ভেঙে পড়ায় পাঁচগাছী, যাত্রাপুর ও বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলাখ মানুষের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত একটি পুরোনো সেতু পারাপারের সময় ট্রাক্টরসহ ভেঙে পড়ে অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছে। রোববার (২৪ মে) সকালে ইউনিয়নের সিতাইঝাড় জাংলিপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পাঁচগাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে রংপুরে নেওয়ার পথে মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে তাঁর নাম ও ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আহতরা সবাই ট্রাক্টর আরোহী শ্রমিক।’

স্থানীয়রা জানান, একটি ট্রাক্টর সেতুর ওপর উঠতেই মুহূর্তের মধ্যে সেটির একটি অংশ পাটাতন থেকে ধসে পড়ে। এতে ট্রাক্টরে থাকা শ্রমিকেরা নিচে খালে পড়ে গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তিনজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত অপর তিনজন কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০০৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) নির্মিত সেতুটি মাত্র ২৩ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এর ওপর দিয়ে ভারী যান চলাচল করা বারণ ছিল। কিন্তু মালবাহী ট্রলি ও ট্রাক্টরচালকেরা বারণ শুনতে নারাজ। তাঁরা ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার করতেন। সেতুটি ভেঙে পড়ায় পাঁচগাছী, যাত্রাপুর ও বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলাখ মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ল। স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এদিকে দুর্ঘটনায় আহত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তার সত্যতা যাচাই করা হয়নি। আজ রাত সাড়ে ৮টায় কুড়িগ্রাম সদর থানায় খোঁজ নিয়েও কারও ‍মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। পাঁচগাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আহত একজনের মারা ‍যাওয়ার খবর শুনেছি। তবে তাঁর পরিচয় পাওয়া জানতে পারিনি।’  

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুই দফায় তিনজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজন চিকিৎসাধীন।

কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগে থেকে সেতুটি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমরা স্থানীয়দের বলেছিলাম, ভারী যানবাহন না চালাতে। এখন ওখানে পানির প্রবাহ না থাকায় সেতুর আর প্রয়োজন নেই। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বন্যা শেষে আমরা ওখানে সেতুর পরিবর্তে পাকা রাস্তা তৈরি করব। আপৎকালীন আগামীকাল বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত