রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

শুধু ধান-গম নয় ফল চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক এরশাদুল ইসলাম। এখন এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন ফল চাষের জাদুকর হিসেবে। সংসারের অভাব দূর করে ছোট ভাইবোনদের লেখাপড়ার খরচ চালান তিনি।
জানা যায়, কুড়িগ্রামের রৌমারীর দাঁতভাঙা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা ধর্মপুর গ্রামের আজগর আলীর ছেলে এরশাদুল। তিনি তাঁর বাবার তিন একর জমিতে বরই, তিন একর জমিতে কলা, এক একর জমিতে লিচু, এক একর জমিতে মাল্টা ফলের বাগান করে উপজেলায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বরই বাগানে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন রঙের কাঁচা-পাকা বরই। কলা বাগানে বেরিয়েছে কলার ছড়ি। লিচু বাগানে শোভা পাচ্ছে সদ্য ফুঁটা মুকুল। সবুজের সমারোহ মাল্টা বাগান। এ সময় কথা হয় ফল চাষি এরশাদুলে সঙ্গে। তিনি জানান, প্রান্তিক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। ৫ ভাই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বড় ভাই ও ছোট তিন ভাইবোন সবাই লেখাপড়া করেন। তিনিও ২০০৩ সালে এসএসসি পাস করেছেন। সংসারের অভাবের কারণে ২০০৪ সালে ঢাকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতে যান।
চাকরির টাকায় সংসারের অভাব না মিটায় চিন্তায় পরে যান তিনি। অনেক চিন্তা ভাবনা করে ফিরে আসেন নিজ গ্রামে। পরে কৃষি কর্মকর্তা ও তাঁর বাবার সঙ্গে পরামর্শ করে ধান, গম চাষের পাশাপাশি ফল চাষের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০০৪ সালে প্রথমে এক একর জমিতে ২০০ আপেল কুলের চারা লাগান। এতে তাঁর খরচ হয় ৭০ হাজার টাকা। এক বছর পর তাঁর আয় হয় প্রায় এক লাখ টাকা। পরে তিনি আরও ২ একর জমিতে বরই বাগান করেন। বরই বাগানের সফলতার পরে ১ একর জমিতে কলা চাষ করেন। কলা চাষেও সফলতা পেয়ে ৩ একর জমিতে বাগান বৃদ্ধি করেন। কলা চাষের পর মন দেন লিচু চাষের দিকে। লিচু চাষে সফলতার পর এখন তিনি ১ একর জমিতে মাল্টা চাষ করছেন।
বর্তমানে তাঁর ৩ একর জমিতে তিন জাতের বরই, ৩ একর জমিতে দুই জাতের কলা, ১ জমিতে দুই জাতের লিচু, ১ একর জমিতে মাল্টা ও ৩০ শতক জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। এসব বাগানে প্রতি বছর তাঁর ব্যয় হয় প্রায় ৪ লাখ টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আয় আসে প্রায় ৮ লাখ টাকা।
চাষি এরশাদুল আরও জানান, বাগানের ফাঁক-ফোকরে পেঁপে, গাজর, শিম, বেগুন, লাউ, ঢ্যাঁড়স, মুলা, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেও বাড়তি আয় আসে। বাগানের সার্বক্ষণিক পরিচর্যার জন্য ৫ জন লোক কাজ করেন। এরশাদুলের সঙ্গে তাঁর বাবাও বাগান দেখাশোনা করেন। এরশাদুল তাঁর বাগানের আয় থেকে সংসারের খরচের পাশাপাশি ছোট এক ভাইকে কম্পিউটারে মাস্টার্স, আরেক ভাইকে ইংরেজিতে অনার্স, ছোট বোন ও তাঁর স্ত্রীকে ডিগ্রিতে লেখাপড়ার খরচের জোগান দিচ্ছেন। এসব ব্যয় করেও তাঁর প্রতিবছর টাকা জমা থাকছে। তাঁর এই ফল চাষ ও ফলবাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে আশপাশের কয়েক গ্রামের অনেক মানুষ ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
এরশাদুলের বাগানে বরই কিনতে আসা খুচরা বিক্রেতা উপজেলার নতুনবন্দর গ্রামের সাইদ আলী বলেন, আগে আমরা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘারচর থেকে বরই কিনে এনে রৌমারী বাজারে বিক্রি করতাম। তাতে আমাদের যাতায়াত খরচ বেশি লাগায় লাভ কম হতো। এখন এরশাদের বাগান থেকে পাইকারি কিনে রৌমারীর বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করি। আমাদের দূরের কোথাও থেকে ফল কিনে আনতে হয় না। এখান থেকে ফল কিনলে যাতায়াত খরচ কম পড়ে, লাভ বেশি হয়।
রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমি এরশাদুলের বরই, কলা ও লিচু বাগান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। তাঁর ফল চাষের সফলতা দেখে আমি মুগ্ধ। তাঁকে আমার দপ্তর থেকে একটি মাল্টা চাষের প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, মাল্টা চাষেও সফলতা অর্জন করবেন তিনি।

শুধু ধান-গম নয় ফল চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক এরশাদুল ইসলাম। এখন এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন ফল চাষের জাদুকর হিসেবে। সংসারের অভাব দূর করে ছোট ভাইবোনদের লেখাপড়ার খরচ চালান তিনি।
জানা যায়, কুড়িগ্রামের রৌমারীর দাঁতভাঙা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা ধর্মপুর গ্রামের আজগর আলীর ছেলে এরশাদুল। তিনি তাঁর বাবার তিন একর জমিতে বরই, তিন একর জমিতে কলা, এক একর জমিতে লিচু, এক একর জমিতে মাল্টা ফলের বাগান করে উপজেলায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বরই বাগানে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন রঙের কাঁচা-পাকা বরই। কলা বাগানে বেরিয়েছে কলার ছড়ি। লিচু বাগানে শোভা পাচ্ছে সদ্য ফুঁটা মুকুল। সবুজের সমারোহ মাল্টা বাগান। এ সময় কথা হয় ফল চাষি এরশাদুলে সঙ্গে। তিনি জানান, প্রান্তিক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। ৫ ভাই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বড় ভাই ও ছোট তিন ভাইবোন সবাই লেখাপড়া করেন। তিনিও ২০০৩ সালে এসএসসি পাস করেছেন। সংসারের অভাবের কারণে ২০০৪ সালে ঢাকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতে যান।
চাকরির টাকায় সংসারের অভাব না মিটায় চিন্তায় পরে যান তিনি। অনেক চিন্তা ভাবনা করে ফিরে আসেন নিজ গ্রামে। পরে কৃষি কর্মকর্তা ও তাঁর বাবার সঙ্গে পরামর্শ করে ধান, গম চাষের পাশাপাশি ফল চাষের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০০৪ সালে প্রথমে এক একর জমিতে ২০০ আপেল কুলের চারা লাগান। এতে তাঁর খরচ হয় ৭০ হাজার টাকা। এক বছর পর তাঁর আয় হয় প্রায় এক লাখ টাকা। পরে তিনি আরও ২ একর জমিতে বরই বাগান করেন। বরই বাগানের সফলতার পরে ১ একর জমিতে কলা চাষ করেন। কলা চাষেও সফলতা পেয়ে ৩ একর জমিতে বাগান বৃদ্ধি করেন। কলা চাষের পর মন দেন লিচু চাষের দিকে। লিচু চাষে সফলতার পর এখন তিনি ১ একর জমিতে মাল্টা চাষ করছেন।
বর্তমানে তাঁর ৩ একর জমিতে তিন জাতের বরই, ৩ একর জমিতে দুই জাতের কলা, ১ জমিতে দুই জাতের লিচু, ১ একর জমিতে মাল্টা ও ৩০ শতক জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। এসব বাগানে প্রতি বছর তাঁর ব্যয় হয় প্রায় ৪ লাখ টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আয় আসে প্রায় ৮ লাখ টাকা।
চাষি এরশাদুল আরও জানান, বাগানের ফাঁক-ফোকরে পেঁপে, গাজর, শিম, বেগুন, লাউ, ঢ্যাঁড়স, মুলা, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেও বাড়তি আয় আসে। বাগানের সার্বক্ষণিক পরিচর্যার জন্য ৫ জন লোক কাজ করেন। এরশাদুলের সঙ্গে তাঁর বাবাও বাগান দেখাশোনা করেন। এরশাদুল তাঁর বাগানের আয় থেকে সংসারের খরচের পাশাপাশি ছোট এক ভাইকে কম্পিউটারে মাস্টার্স, আরেক ভাইকে ইংরেজিতে অনার্স, ছোট বোন ও তাঁর স্ত্রীকে ডিগ্রিতে লেখাপড়ার খরচের জোগান দিচ্ছেন। এসব ব্যয় করেও তাঁর প্রতিবছর টাকা জমা থাকছে। তাঁর এই ফল চাষ ও ফলবাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে আশপাশের কয়েক গ্রামের অনেক মানুষ ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
এরশাদুলের বাগানে বরই কিনতে আসা খুচরা বিক্রেতা উপজেলার নতুনবন্দর গ্রামের সাইদ আলী বলেন, আগে আমরা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘারচর থেকে বরই কিনে এনে রৌমারী বাজারে বিক্রি করতাম। তাতে আমাদের যাতায়াত খরচ বেশি লাগায় লাভ কম হতো। এখন এরশাদের বাগান থেকে পাইকারি কিনে রৌমারীর বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করি। আমাদের দূরের কোথাও থেকে ফল কিনে আনতে হয় না। এখান থেকে ফল কিনলে যাতায়াত খরচ কম পড়ে, লাভ বেশি হয়।
রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমি এরশাদুলের বরই, কলা ও লিচু বাগান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। তাঁর ফল চাষের সফলতা দেখে আমি মুগ্ধ। তাঁকে আমার দপ্তর থেকে একটি মাল্টা চাষের প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, মাল্টা চাষেও সফলতা অর্জন করবেন তিনি।

রোববার সন্ধ্যায় মেহেদী গোবরা থেকে মোটরসাইকেলযোগে শহরের বাসায় ফেরার পথে চিত্রা নদীর এসএম সুলতান সেতু এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ভ্যানকে ধাক্কা দেয়।
১ ঘণ্টা আগে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-১২ আসনে (তেজগাঁও এলাকা) রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আসনে ‘তিন সাইফুলের’ উপস্থিতি ভোটের মাঠে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। তাঁরা হলেন—দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল
৬ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনায় সর্বোচ্চ খরচের পরিকল্পনা করেছেন বিএনপির আলী আসগর লবী। আর জেলায় সবচেয়ে কম বাজেট একই দলের আরেক প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের। হলফনামায় ছয়টি আসনের প্রার্থীদের অধিকাংশই নিজস্ব আয়ের পাশাপাশি স্বজনদের কাছ থেকে ধার ও অনুদান নিয়ে এই ব্যয় মেটানোর কথা জানিয়েছেন।
৬ ঘণ্টা আগে
পাশাপাশি দুটি জনগোষ্ঠীর বসবাস। দূরত্ব বলতে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার হবে। মাঝখানে বয়ে চলা ছোট একটি ছড়া, যা পৃথক করেছে চা-শ্রমিক ও খাসিয়া জনগোষ্ঠীর আবাসস্থলকে। কাছাকাছি এলাকায় বসবাস হলেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ডবলছড়া খাসিয়াপুঞ্জি ও ডবলছড়া বা সুনছড়া চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনমানে ব্যাপক ফারাক।
৬ ঘণ্টা আগে