Ajker Patrika

যৌন হয়রানির অভিযোগে খুবি শিক্ষককে ডিসিপ্লিন থেকে অব্যাহতি, তদন্ত শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ১৮: ৪৫
যৌন হয়রানির অভিযোগে খুবি শিক্ষককে ডিসিপ্লিন থেকে অব্যাহতি, তদন্ত শুরু
অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। ছবি: সংগৃহিত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সাত সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করেছে। অভিযোগের পর তাঁকে অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠানো নিপীড়নমূলক বার্তার প্রমাণসহ যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দেন। এর আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, শুরুতে ওই শিক্ষক তাঁর সঙ্গে ভালো আচরণ করলেও পরে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে কুরুচিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতে শুরু করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি ফেসবুকে তাঁকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর পরদিনই তিনি তা গ্রহণ করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বার্তা পাঠানো শুরু করেন। বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছিল। পরে তাঁর পাঠানো বার্তাগুলো ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আমি বিষয়টি আর সহ্য করতে না পেরে সহপাঠী ও ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধিদের জানাই। এরপর বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘শুরুতে প্রভাবশালী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রয়োজন মনে করেই আমি সামনে এসেছি। আমি চাই অন্য ভুক্তভোগীরাও সাহস করে কথা বলুক এবং এই ঘটনার এমন একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।’

একই ডিসিপ্লিনের আরেক ছাত্রী অভিযোগ করেন, প্রায় এক যুগ আগে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এতটা জনপ্রিয় ছিল না, তখনো অভিযুক্ত শিক্ষক ক্লাসের সবার সামনে কিংবা গভীর রাতে ফোন ও মেসেজে ছাত্রীদের, বিশেষ করে বিবাহিত ছাত্রীদের, নানা ধরনের আপত্তিকর ও অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতেন।

ঘটনা সামনে আসার পর অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের বিভিন্ন ব্যাচের আরও দুই ভুক্তভোগী ছাত্রী হেনস্তার কথা জানান। ভুক্তভোগী ছাত্রীরা বলেন, ওই শিক্ষকের কথায় সায় না দিলে শিক্ষার্থীরা তাঁর ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হতেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক’। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁর মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়। এরপর তিনি তাঁর ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দেন। এই বিষয়ে থানায় জিডি করা হলেও এখনো ফোনটি উদ্ধার হয়নি।

রেজাউল ইসলাম আরও বলেন, ‘ডিসিপ্লিনের প্রধান হিসেবে আমি অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি এবং শিক্ষার্থীদের কিছু নিয়মের বাইরে যেতে বাধা দিয়েছি। মূলত ঈর্ষা ও শত্রুতা থেকেই আমার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি তাসলিমা খাতুন অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য জরুরি সভার আহ্বান করা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মো. হারুনর রশিদ খান বলেন, ডিনদের সঙ্গে বৈঠক করে অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিনপ্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে বাকি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত