
একটি শিশু মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠের পর পৃথিবীর আলোতে বেড়ে উঠতে গিয়ে মা-বাবা কিংবা নিকটাত্মীয় থেকে বুলি, চলন-বলন শিখতে শুরু করে। এরপর বড়দের দেখানো দৃশ্য বা নির্দেশনায় অক্ষরজ্ঞান সম্পর্কে পরিচয় লাভ করে। এ ক্ষেত্রে একেক শিশু একেক বিষয়ে আকৃষ্ট হয়ে ওঠে। কেউ পড়ালেখায়, কেউ নৃত্যে, কেউ গানে, কেউবা ক্রীড়ায়।
এ সময়কালে আর্ট বা চিত্রকর্ম আয়ত্ত করা শিশুর সংখ্যা তুলনামূলক কমই হয়। আর যেসব শিশু মুখের বুলির সঙ্গে চিত্রকর্মে আকৃষ্ট হতে পেরেছে, তাদেরই একজন মেহেরুন্নিসা।
মাত্র চার বছর বয়স থেকে ছবি আঁকায় হাতেখড়ি হয় পার্বত্য খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার মেহেরুন্নিসার। সে বর্তমানে উপজেলার রাণী নীহার দেবী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ছোটকালে একমাত্র মেয়ের আঁকাআঁকির ধরন ও আগ্রহ দেখে মা ফরিদা ইয়াছমিন সিমু ও বাবা খাজা মুহাম্মদ তুষার মেয়ের রংতুলির মিতালিতে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে ২০১৭ সালে ঢাকার বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে ছবি আঁকায় প্রাথমিক প্রশিক্ষণেও অংশ নেয় মেহেরুন্নিসা।

এ ছাড়া মেহেরুন্নিসার নানা শিক্ষাবিদ মো. আতিউল ইসলাম নিজেও চিত্রকর্মে পারদর্শী। ফলে মেহেরুন্নিসাকে চিত্রকর্ম আয়ত্ত করতে তেমন বেগ পেতে হয়নি। একদিকে নানা ভাইয়ের হাতের ছোঁয়া, অন্যদিকে মা-বাবার প্রচেষ্টায় ১২ বছর বয়সে মেহেরুন্নিসা হাজারের বেশি চিত্রকর্ম এঁকে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছে।
আর ছবি এঁকেই নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছে এই খুদে চিত্রশিল্পী। মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলন ও দিবস, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, ফোক আর্ট, পশুপাখি, ঐতিহাসিক স্থান, নদী-পাহাড়, প্রাকৃতিক দৃশ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিভিন্ন ঋতুসংশ্লিষ্ট গ্রামবাংলার চিরাচরিত দৃশ্য ইতিমধ্যে ফুটে উঠেছে তার রংতুলিতে।
এ ছাড়া দেয়াল চিত্রাঙ্কন ও পেইন্টিংয়েও বেশ পারদর্শিতা অর্জন করেছে মেহেরুন্নিসা। এরই মধ্যে তার আঁকা বেশ কিছু ছবি বিভিন্ন ম্যাগাজিন, জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। প্রশংসিত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট, কিডস ক্লাব, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকে পেয়েছে পুরস্কার, সম্মাননা ও সনদ।

খুদে চিত্রশিল্পী মেহেরুন্নিসা আজকের পত্রিকাকে বলে, ‘খুব ছোটবেলায় আঁকাআঁকির প্রবল ইচ্ছা দেখে মা আমাকে আর্ট স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। সেই থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে ছবি আঁকা শুরু আমার। এখন পর্যন্ত আমি হাজারের বেশি ছবি এঁকেছি। ইতিমধ্যে অনেক ছবি পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে জায়গা করে নিয়েছে।’
সে আরও যোগ করে, ‘সুযোগ পেলে ছবি অঙ্কনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণসহ ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চাই।’

সন্তানের এমন নিখুঁত চিত্রকর্মে অনুপ্রেরণা দিয়ে আসা মেহেরুন্নিসার মা ফরিদা ইয়াছমিন সিমু বলেন, ‘ছোট বয়স থেকে ছবি আঁকায় বেশ মনোযোগী ছিল মেহেরুন্নিসা। তাই তাকে আর্ট স্কুলেও ভর্তি করিয়েছিলাম। তার ইচ্ছা, ছবি আঁকার পাশাপাশি ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ক্যারিয়ার গড়বে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকায় তাকে সব ধরনের সাপোর্ট দিয়ে আসছি।’
স্বপ্নচূড়া কালচারাল একাডেমির ড্রইং স্টুডেন্ট ও মেহেরুন্নিসার শিক্ষক মোহনা মোহা বলেন, ‘লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিভা বিকাশে চিত্রাঙ্কন শিশুদের সৃজনশীলতা ও সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হয়। মেহেরুন্নিসা রংতুলিতে নিখুঁতভাবে যেকোনো চিত্রকর্ম সহজে ফুটিয়ে তুলতে পারে।’

শুক্রবার বিকেলে শিশুটিকে খালি ঘরে রেখে তার মা বাড়ির সামনের মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়েছিলেন। কিছু সময় পর ঘরে এসে দেখেন মেয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছে, আর তার নিম্নাঙ্গ থেকে রক্ত ঝরছে। মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
২৮ মিনিট আগে
মামলার আসামি সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমানকে ধিক্কার জানিয়ে ইমতিয়াজ বলেন, ‘আমার মাসুম বাচ্চাকে দুধ খাওয়া থেকেও তোমরা বঞ্চিত করেছ। আমার স্ত্রী ওই চেয়ারে বসে এক দিনও শান্তি পায়নি।’
১ ঘণ্টা আগে
ঈদের পর আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে সংগঠনের নাম, আহ্বায়ক কমিটি— যার মাধ্যমে ঢাকায় বসবাসরত মিরসরাই উপজেলার মানুষদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করবে।
১ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার সময় আলম তাজ একা ছিলেন। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করার ফলে মুখমণ্ডল থেঁতলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি লোহার তৈরি শাবল জব্দ করেছে।
২ ঘণ্টা আগে