Ajker Patrika

তিন দশক ধরে ১০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে দিতে হয় ভোট, নতুন কেন্দ্রের দাবি

এম. কে. দোলন বিশ্বাস, ইসলামপুর (জামালপুর) 
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৪৪
তিন দশক ধরে ১০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে দিতে হয় ভোট, নতুন কেন্দ্রের দাবি
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ভূইয়া প্রস্তাবিত ভোটকেন্দ্র বীর সাপধরী ফজিলা গাফ্ফার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকলেও ভোট দিতে গিয়ে যেন সংগ্রাম করতে হয় জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের বীর সাপধরী এলাকার বাসিন্দাদের। প্রায় তিন দশক ধরে ভোট দিতে তাঁদের পাড়ি দিতে হচ্ছে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ। ইউনিয়নের এক কোণায় মণ্ডলপাড়া ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হয় তাঁদের। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে ভোটের দিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় ভোটাররা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভোটকেন্দ্রটি দূরে হওয়ায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক ভোটারকে ভোট দিতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ভোটারদের দুর্ভোগ কমিয়ে অবাধে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে বীর সাপধরী ফজিলা গাফ্ফার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এ দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদনও করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ভূইয়া এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তাঁরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাপধরী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রটি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মণ্ডলপাড়ায় অবস্থিত। ফলে দুইটি নদী পারি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি, নৌযান সংকট এবং যাতায়াতের ঝুঁকির কারণে নারী, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এ কারণে অনেক ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত থাকেন। যা ভোটার উপস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অপরদিকে, বীর সাপধরী ফজিলা গাফ্ফার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হলে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারেরা সহজে ও নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারবেন। এতে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা সহজ হবে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সাপধরী ইউনিয়নটি যমুনার মধ্যবর্তী অঞ্চল। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছিটাপাড়া, রাজাপুর, মুক্তির বাজার এবং বীর সাপধরী এলাকার ভোটারদের জন্য পূর্ব মণ্ডলপাড়া ভোটকেন্দ্রটি অনেক দূরে। প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাঁদের কেন্দ্রে যেতে হয়। এ পথে যমুনার একাধিক শাখা নদী ও জলপথ পার হতে হয়। ফলে বর্ষা মৌসুমে ভোটারদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দেওয়া কষ্টসাধ্য। নদী পারাপারের জন্য নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয় অনেক ভোটারকে। প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা নদীতে পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

সাপধরী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, ‘পূর্ব মণ্ডলপাড়া ভোটকেন্দ্রটি দূরে হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা পেশিশক্তির প্রভাব দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে থাকে। আমাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বীর সাপধরী এলাকার ভোটারদের জন্য কাছাকাছি ভোটকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেবে।’

সাপধরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ভোট দেওয়া আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু সেই ভোট দিতে একাধিক নদী পেরিয়ে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। সাধারণ মানুষের জন্য বিষয়টি খুবই কষ্টকর। তিন দশক ধরে এভাবেই আমরা ভোট দিয়ে আসছি। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

বীর সাপধরী ফজিলা গাফ্ফার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম লিয়াকত আলী লেবু বলেন, ‘জনস্বার্থ ও ভোটারদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মণ্ডলপাড়া ভোটকেন্দ্রটি বীর সাপধরী ফজিলা গাফ্ফার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক বলেন, ‘আমরা এলাকা পরিদর্শন করেছি। এলাকাটি নদীভাঙন কবলিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জনস্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত