Ajker Patrika

মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি সড়ক মেরামতের কাজ, ভেঙে পড়েছে স্লোপ ড্রেন

এম কে দোলন বিশ্বাস, ইসলামপুর (জামালপুর) 
মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি সড়ক মেরামতের কাজ, ভেঙে পড়েছে স্লোপ ড্রেন
কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগেই সড়কে নির্মিত পানি নিষ্কাশনের ঢালু নালা (স্লোপ ড্রেন) ভেঙে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের ইসলামপুরে সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক মেরামত প্রকল্পের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কাজ শেষ হয়নি। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগেই সড়কে নির্মিত পানি নিষ্কাশনের ঢালু নালা (স্লোপ ড্রেন) ভেঙে পড়েছে। এ ঘটনায় কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও ত্রুটিপূর্ণ কাজের কারণেই নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই স্লোপ ড্রেনগুলো ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, সড়কে পর্যাপ্ত ঢাল না থাকায় স্লোপ ড্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসলামপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মালমারা বাজার-নাপিতেরচর বাজার পাকা সড়কের দুই কিলোমিটার অংশ মেরামতের জন্য সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে (জিওবি) ৬৭ লাখ ১১ হাজার টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী সড়ক মেরামতের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য ২০টি স্লোপ ড্রেন নির্মাণের কথা রয়েছে।

এলজিইডির তত্ত্বাবধানে টেন্ডারের মাধ্যমে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার মালিকানাধীন মেসার্স সুফিয়া এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটি মেরামতের কাজ পায়। চলতি বছরের গত জানুয়ারি মাসে সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করার কথা ছিল। ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের প্রায় ২০ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, মালমারা বাজার থেকে কুমিরদহ-খয়দিয়ারচর হয়ে নাপিতেরচর বাজার সড়কের বিভিন্ন স্থানে মেরামতের কাজ হয়েছে। সড়কের ওপর জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণের জন্য অন্তত ১১টি স্লোপ ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এর অধিকাংশই ইতিমধ্যে ভেঙে পড়েছে।

কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগেই সড়কে নির্মিত পানি নিষ্কাশনের ঢালু নালা (স্লোপ ড্রেন) ভেঙে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগেই সড়কে নির্মিত পানি নিষ্কাশনের ঢালু নালা (স্লোপ ড্রেন) ভেঙে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কুমিরদহ এলাকার আবু তাহেরের বাড়ির উত্তর পাশে নির্মিত স্লোপ ড্রেনের বড় অংশ ধসে গেছে। একই সঙ্গে সেখানে সড়কে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া কুমিরদহ বাজার, কুমিরদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা, জাফরের বাড়ি, সাদা প্রামাণিকের বাড়ি এবং খয়দিয়ারচর পশ্চিমপাড়া মোড় এলাকায় নির্মিত একাধিক স্লোপ ড্রেনও ভেঙে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল মেম্বার, আজহারুল, সাদা প্রামাণিক ও আবু জাফর জানান, দুই-তিন মাস আগে স্লোপ ড্রেনগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। নিম্নমানের কাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো ভেঙে গেছে। ফলে ধীরে ধীরে সড়কের মূল অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুফিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী, উপজেলা বিএনপির সহকোষাধ্যক্ষ ও চিনাডুলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর আলী বলেন, ‘কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টে দেওয়া হয়েছে। অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় আমি নিয়মিত কাজ তদারকি করতে পারিনি। তবে কর্তৃপক্ষের কাছে কাজ হস্তান্তরের আগে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা ঠিকাদারকেই মেরামত করতে হবে। স্লোপ ড্রেন বা সড়কের কোথাও ক্ষতি হলে সাব-কন্ট্রাক্টর তা ঠিক করে দেবেন।’

সাব-কন্ট্রাক্টর মোহাম্মদ সবুজের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সড়কে পর্যাপ্ত ঢাল না থাকায় কয়েকটি স্লোপ ড্রেন ভেঙে গেছে। এগুলো পুনর্নির্মাণ করা হবে। এখনো প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখন পর্যন্ত ২০ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।’

উপজেলা প্রকৌশলী মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, ‘কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ বিল পরিশোধ করা হবে না। প্রয়োজনে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত