হবিগঞ্জে তিন সপ্তাহ ধরে মজুরি পাচ্ছেন না চা-শ্রমিকেরা, বকেয়া পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন

হবিগঞ্জে দেউন্দি টি কোম্পানির আওতাধীন চারটি চা-বাগানের শ্রমিকদের টানা তিন সপ্তাহ ধরে মজুরি দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি বকেয়া পাওনা ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ জমা না হওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক। বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ে বাগানগুলোতে দফায় দফায় কর্মসূচি পালন করেও প্রতিকার না পেয়ে রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন শ্রমিকরা। পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেন চা-শ্রমিক নেতারা।
মানববন্ধনে দেউন্দি, লালচান্দ, নোয়াপাড়া ও মৃত্তিকা চা-বাগানের শ্রমিকরা অংশ নেন। এ সময় তাঁরা বকেয়া মজুরি পরিশোধ, প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ জমা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে শ্রমিকরা উল্লেখ করেন, বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে এরিয়ার (বকেয়া পাওনা) বাবদ প্রত্যেক শ্রমিকের প্রায় ৪ হাজার টাকা করে পাওনা রয়েছে। চারটি বাগানের প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিকের এই খাতে মোট বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি টাকা।
এ ছাড়া শ্রমিকদের মজুরি থেকে কর্তন করা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ এবং মালিকপক্ষের নির্ধারিত অংশসহ মোট ৪৭ মাসের টাকা জমা দেওয়া হয়নি। ফলে শ্রমিকরা প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শ্রমিকরা আরও জানান, বাগানগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। পাশাপাশি শ্রমিকদের বাসস্থান নির্মাণ, ঘরবাড়ি মেরামত, দরজা-জানালা ও ঘরের ছাউনি সংস্কারের কাজও বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত চা-শ্রমিকরা তাঁদের ন্যায্য দাবিদাওয়া সঠিকভাবে পাচ্ছেন না। বিশেষ করে দেউন্দি টি কোম্পানির চারটি বাগানে বর্তমানে তিন সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক শ্রমিকের প্রায় ৪ হাজার টাকা করে বকেয়া এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থও কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে জমা দিচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, এসব দাবিতে প্রথমে নিজ নিজ বাগানে কর্মবিরতি পালন করা হয়। কিন্তু তাতেও কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করা হয়েছে। পরে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এতেও সমস্যার সমাধান না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।









