Ajker Patrika

ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, বিক্ষোভের মুখে বরখাস্ত শিক্ষক

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি 
ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, বিক্ষোভের মুখে বরখাস্ত শিক্ষক
অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুক। ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের চেষ্টা ও একা খাতা দেখতে যেতে বলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুকের শাস্তি ও বদলির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। ফারুকুজ্জামান ফারুক বিদ্যালয়টির বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলা, খারাপ স্পর্শের চেষ্টা এবং ক্লাস শেষে একা খাতা দেখতে যেতে বলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে।

খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল আলম ঘটনাস্থলে যান। তাঁদের আশ্বাসে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যায় শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষা বলে, ‘দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ফারুক শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে আসছেন। এর আগেও ছাত্রীদের নিয়ে খারাপ কথা বলার জন্য অভিভাবকদের কাছে মাফ চেয়েছেন। আমরা তাঁর দ্রুত শাস্তি ও বদলির দাবি জানাই।’

প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, এই স্কুলে আরও অনেক শিক্ষক আছেন, তাঁরা তো এমন ভাষা ব্যবহার করেন না। যেসব ভাষা তিনি ব্যবহার করেন, সেগুলো মুখে বলা যায় না।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুকের শাস্তি ও বদলির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাসে তাঁরা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যায়। ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দেবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত