Ajker Patrika

দেশের মাটিতে বিদেশি আঙুর চাষ: প্রথম বছরেই বাজিমাত

রাতুল মণ্ডল, শ্রীপুর
দেশের মাটিতে বিদেশি আঙুর চাষ: প্রথম বছরেই বাজিমাত
আবুল হাসেমের বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলে রয়েছে সুমিষ্ট আঙুর। ছবি: আজকের পত্রিকা

সুমিষ্ট আর রসালো বলে বিদেশি ফল আঙুরের চাহিদা এ দেশে বরাবরই বেশি। দামও তাই মোটামুটি আকাশছোঁয়া। তবে এবার দেশের মাটিতেই সুমিষ্ট আঙুর ফলিয়ে বাজিমাত করলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. আবুল হাসেম মোড়ল। গাজীপুরের শ্রীপুরে আবুল হাসেমের বাগানে বাঁশের মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলে রয়েছে বাহারি আঙুর। লতানো গাছের প্রতিটিতেই লাল, সবুজ আঙুরের সমাহার।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া গ্রামের সাঈদ আলী মোড়লের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. আবুল হাসেম মোড়ল এক বিঘা জমিতে বিদেশি চারটি জাতের আঙুর চাষ করেছেন। প্রতিটি গাছেই অবাক করা ফলন এসেছে। আঙুর বাগানের চারপাশ সুতার জাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পাখির আক্রমণ থেকে ফল রক্ষা করতেই এই সুতার জাল। উঁচু মাচার ওপরে লতানো গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে রয়েছে লাল, সবুজ রঙের আঙুর। ফলগুলো এখনো পরিপক্ব হয়নি। পরিপক্ব হলে বাজারজাত করবেন বলে জানান আবুল হাসেম।

বাগানের পরিচর্যাকারী মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘বাগানটা আমার কাকা করেছে। আমি পরিচর্যা করি। এবার প্রথম বছর, তাই ফল একটু কম। আগামী বছর অনেক ফলন আশা করছি। রোপণের মাত্র আট মাসের মাথায় ফলন এসেছে।’

বাগানোর মালিক আবুল হাসেম বলেন,‘আমার প্রবাসী ছেলের ইচ্ছায় আঙুরবাগান করি। এই চারাগুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করছি। কিছু আনা হয়েছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে। নাটোর থেকে কিছু আনা হয়েছে। দেশে এই বিদেশি আঙুরের চাহিদা অনেক। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আরও অনেকে যদি এই আঙুর চাষ করেন, তাহলে বাজারে আঙুরের দাম কমবে, পুষ্টির চাহিদাও মিটবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে দেশে যেসব আঙুর উৎপাদিত হতো, সেগুলো স্বাদে কিছুটা টক ছিল। নতুন জাতের এই আঙুর আমাদের মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী এবং স্বাদেও মিষ্টি।’

আবুল হাসেমের বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলে রয়েছে সুমিষ্ট আঙুর। ছবি: আজকের পত্রিকা
আবুল হাসেমের বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলে রয়েছে সুমিষ্ট আঙুর। ছবি: আজকের পত্রিকা

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, ‘চিনাশুকানিয়া গ্রামে আঙুরের বাগান করা হয়েছে। এখানে হাইব্রিড বাইকুনুর জাতসহ কয়েকটি জাতের চাষ করা হয়েছে। বেশ ভালো ফলন আশা করছেন কৃষক। ফলে ইতিমধ্যেই রং ধরেছে। এর মাধ্যমে আমাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শ্রীপুরের পক্ষ থেকে আমরা আঙুরের পরিচর্যায় কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। আমরা আশা করছি, এই বিদেশি ফলের চাষ আমাদের দেশে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত