Ajker Patrika

ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে মারধরের অভিযোগ, আহত বিএনপি নেতার মৃত্যু

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  
ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে মারধরের অভিযোগ, আহত বিএনপি নেতার মৃত্যু
বিচার দাবিতে বিক্ষোভ। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের শ্রীপুরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জয়নাল আবেদীন নামের এক বিএনপি নেতাকে ইউপির সদস্যের নেতৃত্বে ব্যাপক মারধর করা হয়। গত শনিবার মারধরের শিকার বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন (৬০) গতকাল সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আজ মঙ্গলবার রাতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, মারধরের দুই দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে শিশুর পরিবার পলাতক রয়েছে।

জানা গেছে, জয়নাল আবেদীন উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ফাওগান গ্রামের নইমুদ্দিনের ছেলে। তিনি প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।

নিহত জয়নাল আবেদীনের ছেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত শনিবার ফাওগান বাজারের পাশে এক শিশুকে বাবা ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। এই অভিযোগে বাবাকে ডেকে নেন প্রহলাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রাশিদুল ইসলাম। ফাওগান বাজারের পাশে স্কুলমাঠে নিয়ে যান বাবাকে। স্কুলমাঠে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করেন। এভাবে বাবাকে তিন দফা পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বাজারের পাশে তমিজ ডাক্তারের ওষুধের দোকানের সামনে ফেলে যান। এরপর মেম্বারের নেতৃত্বে এসে বসতবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলেও তারা যেতে দেয়নি। অনেক কষ্ট করে বাবাকে উদ্ধার করে বাড়ির কাছে নিয়ে গেলে পুনরায় এসে হামলা করে বাবাকে অনেক মারধর করা হয়।’

নিহত জয়নালের অপর ছেলে মনির হোসেন বলেন, ‘বাবাকে মেম্বার ডেকে নেওয়ার পরপরই মারধর শুরু করে। মারধরের একপর্যায়ে ওরা বাবার অণ্ডকোষ চেপে মৃত্যু নিশ্চিতের চেষ্টা করে। কয়েক দফা বাবাকে মারধর করে। অনেক কষ্ট করে একটি অটোরিকশাযোগে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (গতকাল) সকালে বাবা মারা যান। বাবাকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে খুন করল এই চক্র। ময়নাতদন্তের পর আজ রাতে দাফন করা হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ‘ইউপি সদস্য ডেকে নেওয়ার পরপরই মিথ্যা একটি অভিযোগ তুলে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করল। আমরা এমন ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সবার বিচার দাবি করছি। তিনি খুবই ভালো মানুষ ছিলেন।’

এ বিষয়ে প্রহলাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারের পাশে অবস্থিত একটি শিশুর অভিভাবক আমার কাছে শিশু ধর্ষণের ঘটনা জানানোর পর আমি জয়নাল আবেদীনকে স্কুলমাঠে ডেকে নিই। সঙ্গে সঙ্গে শিশুর স্বজনসহ লোকজন গিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। আমি মারধর করেছি, এটা সঠিক নয়।’

শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, কয়েকজনের একটি সংঘবদ্ধ দল পিটিয়ে জয়নাল আবেদীনকে খুন করে। এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের স্বজনেরা লাশ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখনো মামলা করেনি। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা রুজু হবে। তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নিয়োগ

ভিসা সহজীকরণে ৮ মুসলিম দেশের বৈঠক, সভাপতিত্বে বাংলাদেশ

ইরানি যুদ্ধবিমানগুলোকে আশ্রয় দিয়েছিল পাকিস্তান: প্রতিবেদন

শুভেন্দু অধিকারীর পিএ খুন: অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার ‘শুটার’ বিজেপি-ঘনিষ্ঠ

বরফ জমাট পানির বোতল দিয়ে স্কুলছাত্রের মাথায় শিক্ষকের আঘাত, মুহূর্তেই জ্ঞান হারাল ছাত্র

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত