Ajker Patrika

থানার ভেতরে গোয়ালঘর, চোরাই গরু উদ্ধার করে বিপাকে পুলিশ

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
থানার ভেতরে গোয়ালঘর, চোরাই গরু উদ্ধার করে বিপাকে পুলিশ
থানা প্রাঙ্গণে গোয়ালঘর বানিয়ে রাখা হয়েছে উদ্ধার করা ৫টি গরু। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানা। তবে এখানে প্রবেশ করে যে কেউ প্রথমে একটি ধাক্কা খাবেন। এটা গরুর ফার্ম নাকি থানা বুঝতে বেশ কয়েক সেকেণ্ড লেগে যাবে মস্তিষ্কের। তবে বাস্তবতা হলো, চোরাই এ গরুগুলো উদ্ধারের পর প্রকৃত মালিককে আর খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। ফলে প্রায় এক মাস ধরে থানার ভেতরে গোয়ালঘর তৈরি করে গরুগুলো লালন-পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা।

শুধু তাই নয়, ৫ টি গরুর খাবার, চিকিৎসা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা বিড়ম্বনা সইতে হচ্ছে কালিয়াকৈর থানা পুলিশকে। গুরুগুলোর জন্য প্রতিদিন অন্তত ১৫ কেজি খাবার যোগাড় করা চাট্টিখানি কথা তো নয়!

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট বিকেলে কালিয়াকৈরের মজিদচালা এলাকায় গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এবং মজিদচালা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুখলেসুর রহমানের গ্রামের বাড়ির খামারে পাঁচটি গরু এনে বিক্রির চেষ্টা করছিল একটি চক্র। খামারটি ভাড়া নিয়ে চক্রটি চোরাই গরুর ব্যবসা চালাত বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তিনজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচটি গরু উদ্ধার করে।

চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার দৌলতপুর এলাকার মৃত ইদ্রিস মুন্সির ছেলে মুজিবুর রহমান (৪৫), তাঁর মেয়ে রোবিনা আক্তার (২৫) এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মৃত বরুজের মেয়ে সালমা আক্তার (৩২)।

পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে আটক তিনজন প্রাথমিকভাবে গরু চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুমন শেখ, শহিদুল ইসলাম ও জিন্নাত আলী নামে আরও তিনজন পালিয়ে যান বলেও আটক ব্যক্তিরা জানান।

এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় মামলা করা হয়। পরদিন সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তার তিনজনকে গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা গরুগুলোকে থানা প্রাঙ্গণে রাখা হয়।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গরুগুলোর প্রকৃত মালিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে থানার ভেতরে রেখে লালন-পালন করা হচ্ছে। এগুলো লালন-পালন করা খুবই কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

থানার একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, গরুগুলোর জন্য নিজেদের খরচে গোয়ালঘর তৈরি এবং খাবারের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। প্রতিদিন পাঁচটি গরুর জন্য প্রায় ১০ থেকে ১৫ কেজি খাবার দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় খাবার কম হওয়া এবং চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় গরুগুলো রুগ্‌ণ হয়ে পড়ছে বলে তাঁদের দাবি।

পুলিশ সদস্যরা আরও জানান, গরুর বর্জ্যে থানার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া গরুগুলো দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়ায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিলামের দাবি জানিয়েছেন পুলিশ সদস্য ও থানায় সেবা নিতে আসা লোকজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম ফখরুল হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি থানার পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়নি। এখন আপনাদের মাধ্যমে যেহেতু বিষয়টি জানলাম, সেহেতু সরকারি নিয়মনীতি মেনে গরুগুলো নিলামে বিক্রির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত