Ajker Patrika

ফি না দেওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা, শিক্ষার্থী-বহিরাগতদের মারধরে আহত প্রধান শিক্ষক

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ০১
ফি না দেওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা, শিক্ষার্থী-বহিরাগতদের মারধরে আহত প্রধান শিক্ষক
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ মিয়া। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ফি পরিশোধ না করেও টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে গতকাল বৃহস্পতিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদ মিয়া। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন তিনি।

আব্দুর রশিদ মিয়া উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি একই ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মৃত ফরমান আলী সরকারের ছেলে।

আজ শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে এ দিন সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষা গত বুধবার শুরু হয়। প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, অভিযুক্ত আট শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফি পরিশোধ না করেই প্রভাব খাটিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরদিন পরীক্ষার খাতা দিতে কয়েক মিনিট দেরি হওয়ায় তারা পরীক্ষকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে কক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অফিসকক্ষে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা মুঠোফোনে অন্যদের ডেকে আনে। পরে কয়েকজন ব্যক্তি বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেন।

অভিযোগে বলা হয়, তাঁদের চলে যেতে বললে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষককে টানাহেঁচড়া ও এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলে যাওয়া ও ব্যথাযুক্ত জখম হয় এবং পরনের শার্ট ছিঁড়ে যায়। এ সময় অন্য শিক্ষক-কর্মচারীরা এগিয়ে এলে তাঁদেরও ধাক্কাধাক্কি করা হয়।

আব্দুর রশিদ মিয়ার অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তরা তাঁকে ও অন্য শিক্ষকদের দেখে নেওয়ার এবং পথে একা পেলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে শিক্ষক-কর্মচারীরা রশিদ মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত