Ajker Patrika

সভাপতির বাড়িতে হামলার অভিযোগ, বিদ্যালয়ে ২ ঘণ্টা আটকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 
সভাপতির বাড়িতে হামলার অভিযোগ, বিদ্যালয়ে ২ ঘণ্টা আটকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভেতরে আটকা পড়েন। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গুনভরি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় সভাপতির বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দরজা-জানালার কাচ ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যালয়ের ভেতরে আটকা পড়েন।

আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সভাপতি মোজাম্মেল হকের বাড়ির দিকে যায়। সেখানে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে দরজা-জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মোজাম্মেল হক। তবে কয়েকজন শিক্ষার্থী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান ও ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসরাকুল ইসলাম বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে বের হন।

স্থানীয় অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান নিশ্চিত করতে সভাপতি শিক্ষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। তবে কয়েকজন অভিভাবক সভাপতির উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার পর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগ বেড়েছে।

মোজাম্মেল হক বলেন, বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের তথ্য চাওয়া হলেও প্রধান শিক্ষক তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ ছাড়া কাগজপত্রে আইসিটির ল্যাপটপ ও কম্পিউটার থাকলেও বাস্তবে সবগুলো পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁর। এতে শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কয়েকজন অভিভাবক প্রধান শিক্ষক মতলুবুর রহমান বুলু ও আইসিটি শিক্ষিকা ফেরদৌসী বেগমের আচরণ এবং পাঠদানের পরিবেশ নিয়েও অভিযোগ করে তদন্তের দাবি জানান।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের দিয়ে মিছিল করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষকরা। কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, গত মঙ্গলবার সাংবাদিক নিয়ে এসে সভাপতি তাঁদের শিক্ষকদের অপমান করেছেন। এর প্রতিবাদেই তাঁরা বিক্ষোভ করেছেন। তবে সভাপতির বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ তাঁরা অস্বীকার করেন।

অভিভাবক সজল মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বা আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। কোনো বাড়িতে হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের জড়ানো ঠিক নয়।

ঘটনার সময় বিদ্যালয়ে না থাকায় প্রধান শিক্ষক মতলুবুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আইসিটি শিক্ষিকা ফেরদৌসী বেগম তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আইসিটি ক্লাস নিয়মিত হয় এবং বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সব উপকরণ রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত