Ajker Patrika

শিশু নির্যাতনের ঘটনায় বাবা-ছেলের নামে মামলা, প্রকাশ্যে থাকলেও গ্রেপ্তার নেই

ফরিদপুর প্রতিনিধি
শিশু নির্যাতনের ঘটনায় বাবা-ছেলের নামে মামলা, প্রকাশ্যে থাকলেও গ্রেপ্তার নেই
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতনের শিকার শিশু তওহীদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরের মধুখালীতে চুরির অপবাদ দিয়ে ১৪ বছরের শিশু তাওহীদ শেখকে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাবা ও ছেলেকে আসামি করা হলেও মামলা দায়েরের পরও তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং তাঁরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। এ ছাড়া মামলা করায় পরিবারটিকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

নির্যাতনের শিকার তাওহীদ উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের নওপাড়া কুরানিয়ার চর এলাকার রুবেল শেখের বড় ছেলে। সে স্থানীয় বাজারের একটি ফার্নিচারের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে।

পরিবারের অভিযোগ, গত রোববার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাতে ওই এলাকার মায়ের দোয়া মুড়ির কারখানার দ্বিতীয় তলার ছাদে তাওহীদকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরদিন তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন ছিল সে।

এ ঘটনায় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মধুখালী থানায় অভিযোগ করেন তাওহীদের বাবা রুবেল শেখ। পরে রাতে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর পাঁচটি ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। মামলায় অন্যায়ভাবে আটকে রাখা, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগের ধারাও রয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে মায়ের দোয়া মুড়ির কারখানার মালিক ইশারত মোল্যা (৫৫) ও তাঁর ছেলে মুন্না মোল্যাকে (২৩)।

মামলার এজাহারে রুবেল শেখ অভিযোগ করেন, তিনি চার বছর আগে মায়ের দোয়া মুড়ির কারখানায় কাজ করতেন। কম বেতন দেওয়ায় সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর ইশারত মোল্যা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। এর জেরেই তাঁর ছেলে তাওহীদকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন স্থানীয় বাজারের ফার্নিচারের দোকানের কাজ শেষে রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফিরছিল তাওহীদ। এ সময় আসামিরা তাকে ডেকে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে নিয়ে যান। সেখানে রশি দিয়ে হাত-পা এবং কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ বেঁধে লোহার পাইপ দিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা মারধর করা হয়। এ সময় তাকে লোহা চুরির অপবাদ দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, মারধরের কারণে তাওহীদের কোমরের নিচ থেকে নিতম্ব পর্যন্ত শরীরের পেছনের অংশে কালচে দাগ হয়ে গেছে।

এদিকে মামলার পরও আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ জানিয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্য অনিক ইসলাম লিছন বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে অমানবিক ঘটনা। তাঁরা নির্যাতন করে উল্টো পরিবারটিকেও হুমকি দিচ্ছেন। অথচ তাঁরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিকেলেও দেখেছি মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করুক।’

তাওহীদের দাদা মো. দেলোয়ার শেখ বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, ওরা কোটি কোটি টাকার মালিক। মামলা করায় আমাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আর বলছে—দুই কোটি টাকা খরচ হলেও কোর্টের বারান্দায় যাব না।’

এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বুধবার রাতে পরিবারটিকে ডেকে এনে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত