তাহসিফ হত্যা মামলা: আবার ৩ দিনের রিমান্ডে দীপ

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তাঁর ছোট ভাই সমতুল্য বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আবার ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
৪ দিনের রিমান্ড শেষে দুপুরের পরপরই দীপকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাঁকে পুনরায় ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৩ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত ২৯ অক্টোবর রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ। এরপর গত ৩১ অক্টোবর তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দীপকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। তাঁর জুনিয়র ও বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের সঙ্গে দীপকে দেখা যায়। তারা হাত মেলানোর পর আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে সেখান থেকে চলে যান।
গত ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দীপকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় যায় পিবিআই। দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
গত ৩১ অক্টোবর সকালে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।
মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হলেও তাহসিফকে তাঁর জুনিয়র ও বন্ধু দ্বীপ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গেছেন এজাহারে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে বলা হয়েছ, এটি একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। মামলার ঘটনায় মৃত তাহসিফ সৌরি ঘটনার পূর্বে তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ (২৩) ও এক তরুণীর (১৯) সঙ্গে ঘোরাফেরাসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছেন। এসব তথ্যের আলোকে প্রকাশ পায় যে, মৃত তাহসিফকে মৃত্যুর পূর্বে শেষ বারের মতো তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামীদ্বয়ের সঙ্গে দেখা গেছে। এই অবস্থায় গ্রেপ্তার সন্দিগ্ধ আসামীরা কোনো না কোনোভাবে অত্র মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন মর্মে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
এর আগে দীপকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, সিসিটিভি ফুটেজে দীপের উপস্থিতি ও তাঁর গতি বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ, তাঁর ব্যবহৃত মোবাইলের তথ্য উদ্ধার, মৃত তাহসিফের সঙ্গে রাতে একসঙ্গে কাটালেও ১০ মিনিট অন্যত্র সরে গিয়ে কী করেছেন তা জানা, আরও আলামত উদ্ধার, ঘটনার সঙ্গে অন্য যারা জড়িত রয়েছে তাদের শনাক্ত করার জন্য আরও সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য ঘটনার রাতে তাহসিফ ও দ্বীপের সঙ্গে ঘোরাফেরা করা সেই তরুণীও রিমান্ডে রয়েছেন। গত ১ নভেম্বর তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।













