
রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলার সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৪টি ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ভবন ৭ দিনের মধ্যে খালি করে সিলগালা কিংবা ভেঙে ফেলতে দেড় বছর আগে নির্দেশ দিয়েছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। রাজউকের সুপারিশের ভিত্তিতে জারি করা নির্দেশনাটি এখনো শুধু কাগজেই রয়ে গেছে। এতে হাজারো শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে—বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশ ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। গত দুই দিনে চারটি ভূমিকম্পে দেশে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার ৪৪টি ভবন দ্রুত অচল না করলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কেউ কেউ বলছেন, মাউশি ভবন সিলগালা অথবা ভেঙে ফেলার নির্দেশনা দিলেও তা করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালানোর বিকল্প কোনো উপায় নির্ধারণ না হওয়ায় নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। আবার কেউ কেউ বলছেন, এমন নির্দেশনার বিষয়টি তাঁরা এখনো জানেন না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাউশির এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয় ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল। এতে বলা হয়, রাজউকের তালিকায় থাকা বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ভবনগুলো মজবুত করতে হবে। ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ৪৪টি ভবন ৭ দিনের মধ্যে খালি করে সিলগালা করতে হবে অথবা ভেঙে ফেলতে হবে।
মাউশির সূত্র বলছে, ‘আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্প: রাজউক অংশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ঢাকা মহানগর উন্নয়ন প্রকল্প (ডিএমডিপি) এলাকার সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন সংস্থার মালিকানাধীন ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ভবনগুলো ভেঙে ফেলার সুপারিশ করে। এর মধ্যে রাজউকের তালিকায় মাউশির আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ভবন রয়েছে ৪৪টি।
মাউশির সাধারণ প্রশাসন শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত দেড় বছরে অসংখ্যবার চিঠি দেওয়া হলেও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এসব ভবনেই চলছে পাঠদান, দাপ্তরিক কাজ।
নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল শনিবার মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। কেন নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন হয়নি, এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।’
রাজধানীতে গত শুক্রবার সকালে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এবং গতকাল সকালে এক দফা ও সন্ধ্যায় দুই দফা মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। শুক্রবারের ভূমিকম্পে প্রাণ গেছে ১০ জনের। আহত হয়েছেন ৬ শতাধিক মানুষ। রাজধানীর বহু ভবনে ফাটল ধরেছে, অনেক ভবন হেলে পড়েছে।
মাউশির নির্দেশনার বিষয়ে গত দুই দিনে (শুক্র ও শনিবার) অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থাকা ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছে আজকের পত্রিকা। অধিক ঝুঁকিপূর্ণের ওই তালিকায় রাজধানীর খিলগাঁও সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের একটি দোতলা ভবন রয়েছে। মাউশির নির্দেশনার বিষয়ে গতকাল দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নেসা বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না করে ভবন সিলগালা বা খালি করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব হবে না বলে নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন করা যায়নি।
একই রকম কথা জানান গোড়ানের আলী আহমেদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাসিমা পারভীন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের একটি পাঁচতলা ভবন ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে। তিনি বলেন, নতুন ভবন বা শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা না করে এমন নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা কঠিন। ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান বলেন, কিছুদিন হলো তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন। কলেজের কোন ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, তা তাঁর জানা নেই।
নারায়ণগঞ্জের দেলপাড়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফজলুল কবীর জানালেন, ‘অফিশিয়ালি কোনো নির্দেশনা আসেনি। আপনার কাছ থেকেই এমন নির্দেশনার কথা শুনলাম।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৪৪টি ভবনে কয়েক হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারী দিনের বেশ কয়েক ঘণ্টা থাকছেন। মাউশির নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাঁরা ঝুঁকিতে রয়েছেন।
নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, ‘দেড় বছর আগের নির্দেশনাটি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে? জবাবদিহি না থাকার কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। একটা ঘটনা ঘটার পর আমরা তৎপর হই। কিছুদিন পরই সে তৎপরতা থেমে যায়।’ তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট শিক্ষার্থীকে আমরা ঝুঁকির মধ্যে রাখতে পারি না। কারা এ নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন করেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের (অব.) অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘বাংলাদেশ ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই আমি মনে করি, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কারণ সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বড় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।’
‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ভবন রয়েছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাজধানীর বাড্ডার আলাতুন্নেছা উচ্চমাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সায়েদাবাদের করাতিটোলা সিএমএস উচ্চবিদ্যালয়, যাত্রাবাড়ীর শহীদ জিয়া বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ডেমরার হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুর ১৩ নম্বরের হাজী আলী হোসেন উচ্চবিদ্যালয়, দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কদমতলীর এ কে উচ্চবিদ্যালয় ও ব্রাইট কলেজ, কদমতলীর কে এম মাইনুদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়, আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় (মিঠাব), তেজগাঁও মডেল উচ্চবিদ্যালয়, বাড্ডার এ কে এম রহমতুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, আজিমপুরের অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কোতোয়ালির আহমেদ বাওয়ানী একাডেমি, পল্টনের আরামবাগ উচ্চবিদ্যালয়, লালবাগের আনন্দময়ী বালিকা বিদ্যালয়, সাভারের ভাকুর্তা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও শ্যামনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কেরানীগঞ্জ বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নারায়ণগঞ্জের সরকারি কদম রসুল কলেজ, নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, গাজীপুরের সরকারি কালিগঞ্জ শ্রমিক কলেজ ও কালিগঞ্জ আর আর এন পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়।
নির্দেশনার দেড় বছর পরও অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সিলগালা না করা অথবা ভেঙে না ফেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বেগম বদরুন নাহার। গতকাল তিনি বলেন, কেন দেড় বছর আগের নির্দেশনা এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঢাকার সাভারে থেমে থাকা একটি বাস আগুনে পুড়ে গেছে। আজ রোববার রাত ৭টার দিকে হেমায়েতপুরে কফিল ফিলিং স্টেশনে হানিফ পরিবহনের বাসে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি।
১ ঘণ্টা আগে
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ রোববার যুবদলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বানারীপাড়া উপজেলা
২ ঘণ্টা আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সহিংসতার জন্য তৈরি করা হচ্ছিল হাতবোমা। সিসিটিভি ফুটেজে এর প্রমাণও মিলেছে। সিসিটিভি এবং এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার মূল হোতা ছিলেন জেলা যুবলীগের সহসভাপতি শরীফ উদ্দীন দুলাল। বিস্ফোরণের সেই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করলেও এতে আসামি করা হয়নি দুলালকে।
২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ (শহর ও টঙ্গী) আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের ছেলে এম মঞ্জুরুল করিম রনিকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান গাজীপুর নগরবাসী। স্থানীয়দের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পাঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন
৩ ঘণ্টা আগে