Ajker Patrika

নির্বাচনের আগে পোস্ট-ইসলামিজম কেন ‘জামায়াতের কোলে’—প্রশ্ন মাহফুজ আলমের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২২: ২৫
নির্বাচনের আগে পোস্ট-ইসলামিজম কেন ‘জামায়াতের কোলে’—প্রশ্ন মাহফুজ আলমের
মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও অলটারনেটিভসের সংগঠক মাহফুজ আলম। ছবি: আজকের পত্রিকা

বৈশ্বিকভাবে ইসলামিজম পোস্ট-ইসলামিজমের দিকে অগ্রসর হলেও, বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে পোস্ট-ইসলামিজম কেন আবারও ‘জামায়াতের কোলে’ গিয়ে উঠল—সে প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও অলটারনেটিভসের সংগঠক মাহফুজ আলম। আজ সোমবার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে বিআইজিডির এক বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) আয়োজিত দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলনের শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ’। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলাদেশে নির্বাচনী গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন: ২০২৬ সালের প্রতিফলন ও শিক্ষণ’।

মাহফুজ আলম বলেন, ‘আমরা মধ্যমপন্থী রাজনীতির কথা বলেছিলাম। আমরা এমন একটি রাজনৈতিক ধারা নিয়ে কাজ করছিলাম, যেখানে পুরোনো ইসলামপন্থী বা বামপন্থী রাজনীতির বিবর্তন ঘটবে। বৈশ্বিকভাবে ইসলামিজম তাত্ত্বিকভাবে পোস্ট-ইসলামিজমের দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে পোস্ট-ইসলামিজম কেন আবারও নির্বাচনের আগে জামায়াতের কোলে গিয়ে উঠল, সেটা নিয়ে প্রশ্ন রাখা দরকার।’

মাহফুজ আলম আরও বলেন, ‘অধিকাংশ মানুষের কাছে যদি প্রশ্ন রাখা হয়, তারা বলবেন—আমরা তো জামায়াত পছন্দ করি না, কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে যেতে হয়েছে। প্রশ্ন হলো, এটা কি শুধু নির্বাচনী সুবিধা বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজনীতির কারণে, নাকি আমরা এমন প্রস্তুতি নিতে পারিনি, যাতে একটি শক্তিশালী ডানপন্থী শক্তি বা এর বাইরে একটি মধ্যবর্তী রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করা যেত।’

আন্দোলনভিত্তিক রাজনৈতিক দলের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মাহফুজ আলম বলেন, ‘আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে প্রচলিত বাম-ডান রাজনীতির বাইরে নতুন ধরনের রাজনীতি গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আদর্শগত মতভেদের কারণে দলে যে বিভাজন তৈরি হবে, তার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোও সেই মতভেদকে কাজে লাগিয়েছে। তাই আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলগুলোর টিকে থাকতে হলে নিজেদের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং তা ধরে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

সম্মেলনের শুরুতে দেশে গণতন্ত্রের গতিপথ নিয়ে মূল বক্তব্য দেন বিআইজিডির গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পলিটিক্স ক্লাস্টারের উপদেষ্টা ও সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মির্জা এম. হাসান। পরে তিনটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশনে ২০২৬ সালের নির্বাচনের বিভিন্ন দিক, রাজনৈতিক দলগুলোর পরিবর্তিত ভূমিকা এবং ভবিষ্যতের গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।

ড. মির্জা এম. হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ কখনোই ন্যূনতম মানদণ্ডের গণতন্ত্রও অর্জন করতে পারেনি। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা, বংশানুক্রমিক নেতৃত্ব এবং আইনের শাসনের পরিবর্তে আইনকে শাসনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ধারায় পরিচালিত হয়েছে, যা কর্তৃত্ববাদকে আরও দৃঢ় করেছে। এ ক্ষেত্রে জুলাই অভ্যুত্থানকে একটি আংশিক ভাঙনের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায়। কারণ, এটি ছিল এমন একটি ব্যতিক্রমী গণ-অভ্যুত্থান, যা মূলত জনগণের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছে এবং প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল ছিল না।’

রাজনৈতিক দলের ভেতরে নারীর অংশগ্রহণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে স্বতন্ত্র রাজনীতিবিদ ও চিকিৎসক ড. তাসনিম জারা বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় নারীদের বিষয়গুলো শুধু নারী শাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। আবার নারী শাখার মধ্যেও নারীদের একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করানো হয়। ফলে তারা দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের পদে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান না।’

সম্মেলনে ‘স্টেট অব গভর্ন্যান্স ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন ‘বিচ্ছেদ, সংস্কার ও গণতন্ত্রের পুনর্কল্পনা: উত্তরণকালের সংকট মোকাবিলা’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এতে জুলাই ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পেছনের আকাঙ্ক্ষা, সেই আকাঙ্ক্ষার বিবর্তন এবং উত্তরণকালীন সময়ে তার পরিবর্তনের একটি বিস্তৃত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে দেখানো হয়েছে, কেন অভ্যুত্থানের পর তৈরি হওয়া প্রত্যাশা দ্রুত কমে যায়। একই সঙ্গে এতে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি উদার গণতান্ত্রিক পরিসর গড়ে তোলা সম্ভব।

সম্মেলনে বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ শাহান ও ড. রুবাইয়া মুর্শেদ, গবেষক ও লেখক সোহুল আহমেদ এবং অলটারনেটিভসের সংগঠক ড. তাজনুভা জাবীন উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত