
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে জমে উঠেছে বেচাকেনা। এত দিন তুলনামূলক ফাঁকা থাকলেও গতকাল সোমবার থেকে হাটগুলোতে বেড়েছে ক্রেতার উপস্থিতি। তবে বড় আকারের গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি গরুর প্রতিই ক্রেতার আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। অন্যদিকে খামারিরা বলছেন, গরু পালন, খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও সেই অনুযায়ী দাম পাচ্ছেন না তাঁরা। ফলে আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ায় এবার লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন অনেক বিক্রেতা।
গতকাল রাজধানীর গাবতলী, শাহজাহানপুর ও আমুলিয়া হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এদিন সকাল থেকে বৃষ্টির ফলে ক্রেতা কিছুটা কম থাকলেও বিকেলে এসব হাটে ক্রেতার ভিড় দেখা গেছে। গত কয়েক দিন যেখানে অলস সময় কাটাচ্ছিলেন বিক্রেতারা, সেখানে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা গেছে তাঁদের। কেউ ক্রেতার সঙ্গে দরদাম করছেন, আবার কেউ গরুর খাবার তৈরি করছেন। কেউ কেউ আবার গরুর গায়ে লাগা কাদা পরিষ্কার করছেন।
আমুলিয়া মডেল টাউন হাটের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, হাটে আসা ক্রেতারা অধিকাংশ ছোট ও মাঝারি আকারের গরু কিনছেন। হাট ঘুরেও দেখা গেছে, বড় গরুর চেয়ে মাঝারি ও ছোট গরুর দামদরেই ব্যস্ত অধিকাংশ ক্রেতা।
মেহেরপুরের ফেরদৌস শেখ আজকের পত্রিকাকে জানান, তিনি ২৮টি গরু হাটে এনেছেন। বড় গরুগুলোর ওজন ১৩ থেকে ১৪ মণ। এসব গরুর দাম চাচ্ছেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ৫ থেকে ৮ মণের মাঝারি গরুর দাম চাইছেন ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে। ফেরদৌস শেখ বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৪টি গরু বিক্রি করেছি। সবগুলোই মাঝারি গরু।’
নাটোরের মো. করিম ৯টি ছোট গরু নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, ২ থেকে আড়াই মণ মাংস পাওয়া যাবে এমন গরুর দাম ৮৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। আর ৩ থেকে ৫ মণ মাংস পাওয়া যাবে এমন গরুর দাম ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাইছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আজকে সকালেই তিনটা গরু বেচছি। তিনটাই ছোট গরু।’ গরুগুলো ১ লাখ ১০ হাজার করে বিক্রি করেছেন বলে জানান করিম।
একই হাটে ২৫টি বড় আকারের গরু নিয়ে এসেছেন মেহেরপুরের মিনারুল ইসলাম। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির ওজন প্রায় ২০ মণ। গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৮ লাখ টাকা। মিনারুল বলেন, ‘এই গরুটার দাম সাড়ে ৪ লাখ বলছি। এখনো একটা গরুও বিক্রি হয় নাই।’ তাঁর হাটে আনা অন্য গরুগুলোর দাম শুরু হয়েছে ৩ লাখ টাকা থেকে।
এই হাটে খিলগাঁও থেকে গরু কিনতে আসা ক্রেতা আজিমুর রহমান বলেন, ‘তিন ভাই মিলে গরু কিনলাম। দাম পড়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।’
গাবতলী হাটে বড়, মাঝারি ও ছোট সব আকারের গরুই পাওয়া যাচ্ছে। হাটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হাটে ১ লাখ থেকে শুরু করে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত দামের গরু আছে। তবে ক্রেতাদের অধিকাংশই এখানে মাঝারি আকারের গরু কিনছেন।
এই হাটে ফরিদপুরের রহমান মিয়া ৬টি বড় আকারের গরু এনেছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি গরু থেকে ১৫ মণের বেশি মাংস পাওয়া যাবে। গরুগুলোর দাম চাওয়া হচ্ছে ৭ লাখ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা।
রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে গরুর উপস্থিতি বেশি থাকলেও দাম নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, গরুর খাবার, পরিচর্যা ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবার গরুর দামও বেড়েছে। তবে সেই দামে বিক্রি না হওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা।
মোস্তমাঝি নিউ বনশ্রী হাটে নাটোরের মো. জুলহাস জানান, গত বছরের ২২ হাজার টাকার গাড়ি ভাড়া এবার ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভুসি ৬০ টাকা, খড় হাজার টাকা মণ—তাহলে গরুকে খাওয়াব কী?’ আরেক খামারি মো. রবিউল জানান, এবার প্রতি গরু পরিবহনে অতিরিক্ত প্রায় ৪৫০ টাকা বেশি খরচ হয়েছে।
এদিকে সোমবার দুপুরে গাবতলী বাস টার্মিনাল এবং গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। এ সময় তিনি জানান, রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখী মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াতের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকার কেরানীগঞ্জের রসুলপুর মাদ্রাসা পশুর হাটে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ১ হাজার ৪০০ কেজি (৩৫ মণ) ওজনের বিশাল আকৃতির ষাঁড়। নাম টাইসন। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ শুধু একনজর টাইসনকে দেখতে হাটে ভিড় করে।
৩১ মিনিট আগে
গোলাম মোর্তজা ৯০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন। রাজশাহীর সিটি হাটে এর জন্য তাঁকে হাসিল দিতে হয়েছে এক হাজার টাকা। হাটের ইজারাদারের লোকজন তাঁকে রসিদও দিয়েছেন, কিন্তু তাতে লেখা নেই টাকার পরিমাণ। কোরবানির আগে এমন কৌশলে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই পশুর হাটটিতে পশু ক্রেতাদের গলা কাটছেন ইজারাদার।
৩৩ মিনিট আগে
বছরের পর বছর মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চানন্দী, নলচিরা, সুখচর ও চর ঈশ্বর ইউনিয়নের হাজারো ঘরবাড়ি।
৪২ মিনিট আগে
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন ছড়া থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ সিলিকা বালু অবাধে লুট হচ্ছে। এতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু, একটি স্লুইস গেট এবং সিলেট-ঢাকা রেললাইন ও সিলেট-ব্রাহ্মণবাজার সড়কের ওপর নির্মিত সেতু যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে