Ajker Patrika

মোবাইল ব্যবহারে নিষেধ স্বামীর, ৩ মাসেও মেয়ের মৃত্যুর খবর জানত না পরিবার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮: ৪০
মোবাইল ব্যবহারে নিষেধ স্বামীর, ৩ মাসেও মেয়ের মৃত্যুর খবর জানত না পরিবার
প্রতীকী ছবি

আমেনা বেগম নামের এক নারী ঢাকার আশুলিয়ার কারখানার শ্রমিক ছিলেন। প্রথম স্বামী অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর ২০২৪ সালে একই কারখানার এক শ্রমিকের সঙ্গে বিয়ে হয়। একপর্যায়ে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে স্ত্রীকে মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষেধ করে দেন স্বামী অলিউল্লাহ ওরফে শহিদ। পরে পরিবারও সেভাবেই মানিয়ে নেয়। একপর্যায়ে দীর্ঘদিন যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবার ঠিকানা ধরে গিয়ে জানতে পারে, আমেনা প্রায় ৩ মাস আগে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। আর স্বামী অলিউল্লাহ থাকেন অন্য এলাকায়।

আজ মঙ্গলবার আমেনা বেগমকে হত্যার অভিযোগে স্বামী অলিউল্লাহ ওরফে শহিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন তাঁর বোন রুবিনা বেগম। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে এই মামলা করেন তিনি।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়সহ আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ৭ দিনের মধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মীর আলমগীর হোসেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৮ সালে আমেনা বেগমের প্রথম বিয়ে হয়। পরের বছর তাঁর স্বামী লিভার ক্যানসারে মারা যান। তাঁর তখন দুই মাসের একটি শিশুসন্তান ছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিলে আমেনা আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার ‘আমার স্পিনিং মিলস লিমিটেডের’ অপারেটর হিসেবে চাকরি নেন। তাঁর বোন নুরজাহানও সেখানে চাকরি করেন। তবে ভিন্ন ফ্লোরে এবং ভিন্ন শিফটে। এ কারণে তাঁদের দেখা হতো কম। অভিযুক্ত শহিদও একই কারখানায় চাকরি করেন। ২০২৪ সালের শেষের দিকে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে শহিদ আমেনাকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দিতেন না। অনেক দিন পর আমেনা তাঁর পরিবারের লোকজনকে শহিদের মোবাইল থেকে ফোন করে জানায়, তার স্বামী ফোন কেড়ে নিয়েছে এবং কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেন না।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে আমেনার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ ছিল না। মে মাসের শেষের দিকে নুরজাহান আমেনার বাসায় যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁরা অন্যত্র বাসা নিয়েছে। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর নুরজাহান আমেনার নতুন বাসার ঠিকানা খুঁজে পান। সেখানে গিয়ে আশপাশের লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারেন, ২৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমেনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এরপর থেকে শহিদ পলাতক।

পরিবারের দাবি, পুলিশ আমেনার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে শিমুলতলার দরগারপাড় কবরস্থানে মরদেহ দাফন করে।

আমেনার পরিবার আশ-পাশের লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারে, শহিদ প্রায় আমেনাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিনেও মারধর করেছেন। শহিদ আমেনাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

জানা গেছে, আমেনার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের কোনো সদস্যকে না পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত