Ajker Patrika

জরায়ুমুখ ক্যানসার সচেতনতা

রেডিওথেরাপির সক্ষমতা বাড়ানো দরকার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
রেডিওথেরাপির সক্ষমতা বাড়ানো দরকার
জরায়ুমুখের ক্যানসার সচেতনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে র‍্যালির আয়োজন করে ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি, বাংলাদেশ। ছবি: ফোকাস বাংলা

জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূলের লক্ষ্য অর্জনে তিনটি বিষয় একসঙ্গে বাস্তবায়ন জরুরি। এগুলো হচ্ছে টিকা, পরীক্ষা এবং তারপর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। টিকায় ভালো অগ্রগতি হলেও বিকিরণ চিকিৎসায় এক বছরের বেশি অপেক্ষা করতে হয়, যা গ্রহণযোগ্য নয়। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এই অভিমত দেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

জানুয়ারি মাস সারা বিশ্বে জরায়ুমুখ ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে উদ্‌যাপন করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশে ২০১৭ সাল থেকে জানুয়ারির দ্বিতীয় শনিবারকে বেসরকারিভাবে জরায়ুমুখ ক্যানসার সচেতনতা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এ বছর দিবসটি উপলক্ষে ‘মার্চ ফর মাদার’ মোর্চার পক্ষে কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্ট ও ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি বাংলাদেশ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ‘জননীর জন্য পদযাত্রা’ অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী এবং গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

সভার প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হালিদা হানুম আখতার। প্রধান আলোচকের বক্তব্য দেন কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. সারিয়া তাসনিম এবং গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি ও কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী কোনো রোগে আক্রান্তের হার যদি প্রতি এক লাখের মধ্যে চারজনের নিচে নামিয়ে আনা যায়, তবে সেটিকে ‘এলিমিনেশন’ বা নির্মূল করা বলা যায়। জরায়ুমুখের ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনটি বিষয় একসঙ্গে বাস্তবায়ন জরুরি—টিকাদান, পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা।’

হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন, ‘এইচপিভি ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচিতে সরকারের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। গত বছর সারা দেশের ১০-১৪ বছর বয়সীদের বিনা মূল্যে এক ডোজ এইচপিভি টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা, বিশেষ করে বিকিরণ চিকিৎসায় এক বছরের বেশি অপেক্ষা গ্রহণযোগ্য নয়। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের সাহসী পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন বলেন, ‘জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত ১০০ রোগীর মধ্যে মাত্র ৩০ জনের অস্ত্রোপচার সম্ভব। বাকি ৭০ শতাংশ রোগীর জন্য রেডিওথেরাপি অপরিহার্য। কিন্তু দেশে এই সেবার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। রেডিওথেরাপির সক্ষমতা বাড়াতে সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। শুধু চিকিৎসক নয়, যাঁরা সমাজসেবামূলক কাজ করেন—সবাইকে এই দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে।’

প্রধান অতিথি ডা. হালিদা হানুম আখতার রেড ক্রিসেন্টের ৬৮টি শাখায় পর্যায়ক্রমে ক্যানসার সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তার মধ্যে ছিলেন ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ ক্যানসার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাহবুব শওকত, চলচ্চিত্রকার মসিহউদ্দিন শাকের, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আব্দুল হাকিম মজুমদার এবং লেখক আসিফ হাসান নবী। তাঁরা বাল্যবিবাহ, বেশিসংখ্যক ও ঘন ঘন সন্তান ধারণ, ব্যক্তিগত অপরিচ্ছন্নতা এবং অপুষ্টি জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় বলে উল্লেখ করেন।

আলোচনা শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মগবাজার চৌরাস্তা পর্যন্ত ‘জননীর জন্য পদযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। পদযাত্রায় অংশ নেন কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্ট, ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ক্যানসার ফাউন্ডেশন, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতাল, গাইনি অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত