
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ পরোয়ানা জারি করেন।
আদালতের শাহবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২৮ আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলায় যে ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে তারা হলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া; ওই হলের আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ; ভূগোল বিভাগের আল হোসাইন সাজ্জাদ; পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ; মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া; ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ এবং আশরাফ আলী মুন্সী।
এদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম জামিনে আছেন। জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে আটক। অপর ২২ আসামি পলাতক।
মামলার অধিকতর তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন করে আরও সাত জনসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এর আগে মামলাটি তদন্ত করে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান। অভিযোগপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়।
মামলার তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে নারাজি দাখিল করা হয়। পরে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার সময় একজন যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তাকে আটক করে প্রথমে ফজলুল হক মুসলিম হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে যান। মোবাইল চুরির অভিযোগ করে তারা ওই যুবককে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক তার নাম তোফাজ্জল বলে জানান। পরে তিনি মানসিক রোগী বুঝতে পেরে তাকে হলের ক্যানটিনে নিয়ে খাবার খাওয়ান। এরপর তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্র বেধড়ক মারধর করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
উল্লেখ্য, তোফাজ্জলের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নে। কয়েক দিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ মাসুমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে নিহতের ফুপাতো বোন আসমা আক্তার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামানের আদালতে আরেকটি হত্যা মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলার সঙ্গে মামলাটি একই সঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ৩৫ বছর বয়সী তোফাজ্জল হোসেনকে নির্মমভাবে মারধর করার আগে হামলাকারীরা মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার পরিবারের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল।
তোফাজ্জলের মামা আব্দুর রব মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং ক্রিকেট স্টাম্প ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জলের কাঁধ, পিঠ, পা ও ঊরুতে প্রচণ্ডভাবে পেটায়। গুরুতর আঘাত ও রক্তক্ষরণের কারণে তোফাজ্জলের মৃত্যু হয়।

শিশুটি বিষয়টি অন্য শিক্ষকদের জানালে তাঁরা ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে মারধর ও কাউকে না বলার জন্য ভয় দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বাবা-মাকে জানালে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
১৩ মিনিট আগে
বহরমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বগুড়া গ্রামের দলিল উদ্দিন মাস্টারের গোয়ালঘর থেকে গরু চুরি করে মিশুক গাড়িতে তোলার সময় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। তাঁরা ওই ব্যক্তিদের পরিচয় ও গরুটির মালিকানা সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁদের মধ্যে একজন দৌড়ে পালিয়ে যান।
১৭ মিনিট আগে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বড়দেশী গ্রামের একটি আঞ্চলিক সড়কে এক বৃদ্ধ রিকশাচালক রিকশা মেরামত করছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেট কার এসে তাঁকে ও তাঁর রিকশাকে ধাক্কা দেয়। পরে গাড়ি থেকে কয়েকজন যুবক নেমে ওই রিকশাচালককে মারধর শুরু করেন।
২৬ মিনিট আগে
ভোলার চরফ্যাশনের জেলেদের জালে নদী ও সাগরে একসময় ধরা পড়ত প্রচুর মাছ। মাছ বিক্রি করেই চলত হাজারো জেলে পরিবারের সংসার। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। নদী ও সাগরে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় মাছ না পাওয়ায় কমেছে জেলেদের আয়। অথচ ট্রলার, জাল, জ্বালানি, খাবার ও সংসারের খরচ ঠিকই বহন করতে হচ্ছে।
১ ঘণ্টা আগে