Ajker Patrika

বিটিভির অনিয়ম: রাজস্ব খাতে কেনা মালপত্র দেখানো হয় প্রকল্পের

  • অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
  • নির্বাচিত ঠিকাদারের নাম-ঠিকানা, পরিশোধিত অর্থের পরিমাণসহ বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে।
  • অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রেকর্ড সংগ্রহের উদ্যোগ।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ৪০
বিটিভির অনিয়ম: রাজস্ব খাতে কেনা মালপত্র দেখানো হয় প্রকল্পের

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, ব্যয় বিবরণী ও প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সংস্থাটির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

বিটিভির এই প্রকল্পে দুর্নীতি অনুসন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম। তিনি জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রেকর্ড সংগ্রহে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিটিভির রাজস্ব খাতে কেনা বিভিন্ন মালপত্রকে প্রকল্প খাতে ব্যয়ের হিসাবে দেখানো হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এরই মধ্যে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।

দুদকের চিঠিতে, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিটিভি ঢাকা কেন্দ্রের রাজস্ব খাতে মালপত্র কেনার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিল-ভাউচার, স্টক রেজিস্টার ও বিতরণ রেজিস্টারের সংশ্লিষ্ট অংশের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ওই সময়ের ক্রয়সংক্রান্ত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির নম্বর, প্রকাশের তারিখ, কেনা মালপত্রের বিবরণ, নির্বাচিত ঠিকাদারের নাম-ঠিকানা, পরিশোধিত অর্থের পরিমাণসহ বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগে জড়িত পাঁচ কর্মকর্তার তথ্যও চেয়েছে দুদক। তাঁরা হলেন সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মো. মনিরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. মান্নাফ হোসেন, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজার মো. আরিফুল হাসান এবং রক্ষণ প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল হাদী।

চিঠিতে অভিযুক্তদের গত সাত বছরের বিদেশ সফরের তালিকা ও সফরের উদ্দেশ্য জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিসাব (কানেক্টর) মেরামত-সংক্রান্ত বিল-ভাউচারের কপিও চাওয়া হয়েছে।

দুদকের চিঠিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া, ক্রয়াদেশ, বিল-ভাউচার, পরিশোধসংক্রান্ত নথি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন, অনুমোদনের প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে গুরুতর মনে হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত